সৌভিক মুখোপাধ্যায়, হাবড়া: বর্তমান ডিজিটাল যুগে লং ভিডিওর থেকে শর্ট ভিডিও বেশি চলছে। কারণ, বাচ্চা থেকে বয়স্ক প্রত্যেকের মধ্যেই রিলস দেখার নেশা রয়েছে। তাই ছোট ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করেই এখন মানুষ প্রচুর পরিমাণে আয় করে নিচ্ছে। বিশেষ করে ইউটিউব শর্টস বা ইনস্টাগ্রামের রিলস, দুই প্ল্যাটফর্ম এখন কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের প্রথম পছন্দ (Youtube Shorts vs Instagram Reels)। কিন্তু একটা প্রশ্ন তো থেকেই যায়। দুই প্ল্যাটফর্মের মধ্যে কোনটিতে আয় বেশি? আসলে এরকম প্রশ্নের উত্তর দেওয়াও কঠিন। কারণ, আয় নির্ভর করে কন্টেন্টের ধরন, দর্শকের সংখ্যা আর ফলোয়ার বেসের উপর। চলুন বিস্তারিত বুঝে নিই ব্যাপারটা।

ইউটিউবের শর্টসে কেমন আয় হয়?

বলে রাখি, ইউটিউবের শর্টস বর্তমানে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য একটি বড় আয়ের মাধ্যম। ইউটিউব এখন শর্ট ভিডিওতে বিজ্ঞাপন দেখাচ্ছে। আর সেই বিজ্ঞাপনের আয়ের একটি অংশই কন্টেন ক্রিয়েটরদের দিচ্ছে। সাধারণভাবে ১ মিলিয়ন বা ১০ লক্ষ ভিউ হলে ক্রিয়েটররা ৮০০ থেকে ৪০০০ টাকা পর্যন্ত আয় করে থাকে শর্ট ভিডিওতে। কিন্তু এই পরিমাণ নির্দিষ্ট নয়। কারণ, দর্শক কোন দেশের, ভিডিও ক্যাটাগরি কী, সেইসবের উপরেই আয় নির্ভর করছে। আর সবথেকে বড় ব্যাপার, ইউটিউব শর্টস থেকে সরাসরি আয় হয় এবং পুরনো ভিডিও থেকেও দীর্ঘদিন আয় করা যায়। আর নিয়মিত ভিডিও ধীরে ধীরে স্থায়ী ইনকামের রাস্তা তৈরি হয়।

ইনস্টাগ্রাম রিলসে কেমন আয়?

তবে ইউটিউের মতো ইন্সটাগ্রাম রিলসে সরাসরি আয়ের কোনও উপায় নেই। কারণ, ভিউয়ের ভিত্তিতে এখানে আয় নেই বললেই চলে। যদিও মাঝে মাঝে মেটা কিছু ক্রিয়েটরদের বোনাস দিয়ে থাকে। কিন্তু সেগুলি আবার সবাই পায়না। তবে এখানেই রয়েছে টুইস্ট। কারণ, ইন্সটাগ্রাম রিলিসের আয় সম্পূর্ণ নির্ভর করে ব্র্যান্ড স্পন্সারসিপ, প্রমোশনের উপরে। যদি আপনার একটু ফলোয়ার বেশি হয়, আর রিলে বেশি পরিমাণে ভিউ আসে, তাহলে সেই রিলস থেকেই হাজার থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা ইনকাম করা যায়। কিন্তু সমস্যা রয়েছে কিছু। এখানে আয় নির্ভর করে শুধুমাত্র ব্র্যান্ডের উপরে। আর নতুন ক্রিয়েটরদের জন্য শুরুতে আয় করা এখানে কঠিন। এমনকি বেশিরভাগ রিলস দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে জনপ্রিয়তা হারিয়ে ফেলে, পরে আর সেই ভিডিওতে ভিউ হয় না।
আরও পড়ুন: ইচ্ছামতো বাছতে পারবেন পছন্দের সিট! বিমানে ৬০% আসন ফ্রি রাখার নির্দেশ DGCA-র
তাই আপনি যদি এক্কেবারে নতুন কিছু শুরু করেন, তাহলে ইউটিউব শর্টস আপনার জন্য উপযুক্ত হতে পারে। কারণ, এখানে ধীরে ধীরে ভিউ বাড়িয়ে নিয়মিত আয় করতে পারবেন। তারপর আপনি ইন্সটাগ্রাম রিলসে শিফট হতে পারেন। তবে হ্যাঁ, এটাও বলে রাখি, শুধুমাত্র ইনস্টাগ্রামে যে ব্র্যান্ড প্রমোশন আসে এমনটা নয়। কারণ, ইউটিউব শর্ট ভিডিওতেও ব্র্যান্ড স্পন্সরশিপ করে। আর সেগুলো থেকেও মোটা অঙ্কের টাকা আয় করা যায়।