সৌভিক মুখোপাধ্যায়, হাবড়া: বৃদ্ধ বয়সে আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্প চালু করেছে। তার মধ্যে সবথেকে অন্যতম হল অটল পেনশন যোজনা (Atal Pension Yojana)। এই প্রকল্পে বিনিয়োগ করলে ৬০ বছর বয়সের পর প্রতি মাসে ১০০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫০০০ টাকা পর্যন্ত গ্যারান্টিযুক্ত পেনশন মিলবে। আর অসংগঠিত ক্ষেত্রে কর্মরত মানুষদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্যই মূলত এই প্রকল্প। বিস্তারিত জানুন এই প্রতিবেদনে।

কারা এখানে আবেদন করতে পারবে?

কেন্দ্র সরকারের এই স্কিমে আবেদন করার জন্য বয়স হতে হবে ১৮ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। আর তাঁকে অবশ্যই ভারতীয় নাগরিক হতে হবে। তবে হ্যাঁ, এই স্কিমে আবেদন করার জন্য অবশ্যই সক্রিয় সেভিংস ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বা পোস্ট অফিসের অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে। ৬০ বছর বয়স পূর্ণ হলেই নির্বাচিত পেনশন অনুযায়ী প্রতি মাসে নির্দিষ্ট অর্থ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। অটল পেনশন যোজনায় আবেদনকারী নিজের পছন্দ অনুযায়ী পেনশনের পরিমাণ বেছে নিতে পারবে। সেক্ষেত্রে ১০০০০, ২০০০, ৩০০০, ৪০০০ এবং সর্বোচ্চ ৫০০০ টাকা পর্যন্ত আপনি পেনশন পাবেন। তবে কত বয়সে যোগ দিচ্ছেন তার উপরেই আপনার প্রতি মাসে জমা দেওয়ার পরিমাণ নির্ধারিত হবে। যত কম বয়সে যোগদান করবেন তত মাসিক অবদান কম হবে। আর সবথেকে বড় ব্যাপার, এই স্কিমে বিনিয়োগ করলে আয়কর আইনের ৮০এসএসডি (১বি) ধারা অনুযায়ী অতিরিক্ত ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত করছাড়ের সুবিধা মিলবে।

কীভাবে আবেদন করবেন?

এই স্কিমে আপনি অফলাইন বা অনলাইন যে কোনও পদ্ধতিতেই নিজের নাম নথিভুক্ত করতে পারেন। অফলাইনে আবেদন করার জন্য নিকটবর্তী কোনও ব্যাঙ্ক বা পোস্ট অফিসে যেতে হবে। তারপর সেখান থেকে অটল পেনশন যোজনার রেজিস্ট্রেশন ফর্ম সংগ্রহ করে নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর, আধার নম্বর এবং নমিনির তথ্য পূরণ করতে হবে। তারপর প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট সংযুক্ত করে সেখানে জমা দিতে হবে। এরপর নির্ধারিত দিনে মাসিক টাকা অটো ডেবিটের মাধ্যমে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে কেটে নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: ‘সেমি ফাইনাল শেষ, এবার হবে ফাইনাল!’ বকেয়া DA-র দাবিতে বিরাট ঘোষণা
অন্যদিকে অনলাইনে আবেদন করার জন্য নেট ব্যাঙ্কিং-এ লগইন করতে হবে। তারপর ‘Social Security Schemes’ বা ‘APY’ অপশন নির্বাচন করতে হবে। তারপর ‘Apply for APY’ স্কিমে ক্লিক করতে হবে। এরপর আপনি কত টাকা পেনশন পেতে চান তা নির্বাচন করতে হবে এবং নমিনির তথ্য দিতে হবে। তারপর অটো ডেবিট অ্যালাও করে সাবমিট করতে হবে। নথিভুক্তিকরণ সম্পন্ন হলে আপনি একটি পিআরএএন নম্বর পাবেন। সেটিকে সংগ্রহ করে রাখতে হবে।