সৌভিক মুখোপাধ্যায়, হাবড়া: রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চালু করা যুবসাথী (Banglar Yuva Sathi) নিয়ে দেখা যাচ্ছে উদ্বেগ। কারণ, আবেদন করার পরেও অনেকের অ্যাকাউন্টে এখনো পর্যন্ত প্রকল্পের ১৫০০ টাকা ঢোকেনি। বৃহস্পতিবার পাণ্ডবেশ্বর জনসভা থেকে সেই উদ্বেগের অবসান ঘটিয়েছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, টাকা পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনও চিন্তার কারণ নেই।
সবার অ্যাকাউন্টে ঢুকবে টাকা
পাণ্ডবেশ্বর জনসভায় বক্তব্য রাখার সময় যুবসাথী প্রকল্প নিয়ে এদিন আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছেন, যুবসাথী আমরা সবাইকেই দিচ্ছি। নির্ধারিত মানদন্ড অনুযায়ী অনেককেই দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু কিছু জনের টাকা বাকি রয়েছে। বর্তমানে প্রসেস বা প্রক্রিয়া চলছে। খুব দ্রুতই টাকা পেয়ে যাবেন। মুখ্যমন্ত্রীর এই আশ্বাসের পর এটা পরিষ্কার উঠে আসছে যে, টেকনিক্যাল কারণে বা যাচাইকরণগত সমস্যার কারণে যাদের টাকা আটকে ছিল, তাদের অ্যাকাউন্টে খুব শীঘ্রই এই ১৫০০ টাকা করে ঢুকবে। বলাবাহুল্য, এর আগে নির্বাচনি ইস্তেহারে যুবসাথী প্রকল্প নিয়ে ব্যাখ্যা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেছিলেন, রাজ্যের প্রায় ১ কোটি যুবক-যুবতীকে এই প্রকল্পের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে সরকারের। আর ২১ থেকে ৪০ বছর বয়স পর্যন্ত যোগ্য প্রার্থীরা একমাত্র এই সুবিধা পাবে। এমনকি মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বলেন যে, এই ১৫০০ টাকাকে বেকার ভাতা হিসেবে দেখা ঠিক নয়, বরং যুবক-যুবতীরা যতদিন না পর্যন্ত স্থায়ী চাকরি বা কর্মসংস্থান পাচ্ছে, ততদিন তাদের পড়াশোনা বা ছোটখাটো প্রয়োজন মেটাতে এই টাকা সাহায্য করবে।
আরও পড়ুন: ৬ দিন পর থেকে ভারতের রাস্তায় চলবে না কোনও গাড়ি!
লক্ষীর ভাণ্ডার নিয়েও বড়সড় মন্তব্য
প্রসঙ্গত, এদিন পাণ্ডবেশ্বর সভা থেকে শুধুমাত্র যুবসাথী নয়, বরং লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প নিয়েও বিরোধীদেরকে কড়া জবাব দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার আজীবন দেওয়া হবে। আর এই প্রকল্পের টাকাও কোনও দিন বন্ধ হবে না। এই ঘোষণার মাধ্যমেই রাজ্যের মহিলা ভোটারদের যে আশ্বস্ত করেছে তৃণমূল কংগ্রেস তা বলার অপেক্ষা রাখে না।