বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: এই মুহূর্তে বাংলায় বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা DA-ই হল রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের সবচেয়ে বড় ক্ষত (West Bengal Assembly Election)। বিধানসভা নির্বাচনের আগে সেই ক্ষততে মলম লাগাতে চাইছে বিজেপি। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরেও যেখানে সরকারি কর্মীদের বকেয়া DA নিয়ে কোনও হেলদোল নেই বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের, সেই পর্বে দাঁড়িয়ে ভোটের আগে বড় প্রতিশ্রুতি দিল বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের দাবি, তাঁরা যদি ক্ষমতায় আসে তবে 45 দিনের মধ্যে রাজ্যে সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর হয়ে যাবে।

নির্বাচনকে পাখির চোখ করে বিজেপির প্রতিশ্রুতি

রাজ্যে ষষ্ঠ বেতন কমিশনের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে গত বছরের 31 ডিসেম্বর। কাজেই পহেলা জানুয়ারি থেকেই সপ্তম বেতন কমিশন সুপারিশ কার্যকর হয়ে যাওয়ার কথা। সাধারণত 10 বছর অন্তর কেন্দ্র এবং রাজ্য উভয় পক্ষই পে কমিশন গঠন করে থাকে। তবে রাজ্যে ঠিক কবে নতুন পে কমিশন গঠন করা হবে তা নিয়ে আপাতত কোনও তথ্য মেলেনি। সাম্প্রতিক অন্তবর্তী বাজেটেও এ নিয়ে কোনও প্রতিশ্রুতি দেয়নি রাজ্য সরকার। বেশ কয়েকটি সূত্র দাবি করছে, হয়তো কেন্দ্রীয় সরকারের অষ্টম বেতন কমিশনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে রাজ্যে সপ্তম বেতন কমিশন গঠন করা হতে পারে। তবে নতুন কমিশন গঠন হলেও রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের বেতন কতটা বাড়বে বাড়লেও কবে থেকে তা কার্যকর হবে এসব নিয়ে রয়েছে গভীর সংশয়। ঠিক সেই আবহে, রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের বেতন অর্থাৎ পে কমিশনকে প্রধান অস্ত্র বানাতে চাইছে বিজেপি।
অবশ্যই পড়ুন:“রিঙ্কু সিংয়ের বাবার মৃত্যু টিম ইন্ডিয়ার জন্য আশীর্বাদ?” এমন প্রশ্ন কে করেছে জানেন?
কারণ, বিশেষজ্ঞরা বলছেন কেন্দ্র এবং রাজ্যের মধ্যে সমতা বজায় রাখতে হলে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর থাকতে পারে 2.91 থেকে 3.15 এর মধ্যে। তাতে যেসব কর্মীদের বর্তমান বেতন 18 হাজার টাকা তা বেড়ে হতে পারে 52 হাজার থেকে 56 হাজার টাকা। এক কথায়, সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর হয়ে গেলে আখেরে পকেট ভরবে রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের। আর ঠিক সেই বিষয়টিকেই কাজে লাগিয়ে ভোটের বৈতরণী পার করতে চাইছে বিজেপি। যদিও ওয়াকিবহাল মহলের অনেকেই বলছেন, মমতা সরকারের একের পর এক সুপারহিট প্রকল্পের সামনে টিকবে না গেরুয়া শিবিরের এই প্রতিশ্রুতি।