সৌভিক মুখোপাধ্যায়, হাবড়া: চৈত্র মাসের বাজারে যখন চড়া রোদের দাপট থাকার কথা, ঠিক তখনই উল্টো দৃশ্য শহর কলকাতায় (Weather Update)। ঝোড়ো হাওয়া আর বৃষ্টির দাপটে তিলোত্তমার পারদ একেবারে রেকর্ড হারে পতন হয়েছে। শনিবার শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ১১ ডিগ্রি নিচে নেমে যাওয়ার কারণে ভ্যাবাচ্যাকা খেল গোটা শহরবাসী। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, আজও রাজ্যের একাধিক জেলায় বজ্রবিদ্যুতসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

শনিবার রেকর্ড হারে পারদ পতন

প্রসঙ্গত, শনিবারের আবহাওয়া গত কয়েক বছরের চৈত্র মাসের সমস্ত রেকর্ডকে একেবারে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। হাওয়া অফিসের রিপোর্ট বলছে, এদিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল মাত্র ২৩.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস যা স্বাভাবিকের থেকে ১১ ডিগ্রি কম। আর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে গিয়েছিল ১৯.২ ডিগ্রি সেলসিয়াছে যা স্বাভাবিকের থেকে ৪.৪ ডিগ্রি কম। আর গত ২৪ ঘণ্টায় কলকাতায় ১৯.৮ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। তাপমাত্রার এই অস্বাভাবিক পতনে অনেকেই আলমারি থেকে হালকা চাদর বা জ্যাকেট বের করতে বাধ্য হচ্ছেন। কিন্তু আজ রবিবার তাপমাত্রা কিছুটা বেড়ে সর্বোচ্চ ২৯ ডিগ্রি আর সর্বনিম্ন ২০ ডিগ্রির আশেপাশে থাকতে পারে।

উত্তরবঙ্গ এবং দক্ষিণবঙ্গে আজ আবহাওয়া কেমন থাকবে?

রবিবার গোটা বাংলাজুড়ে বৃষ্টির ভ্রূকুটি বজায় থাকবে বলে জানাচ্ছে হাওয়া অফিস। উত্তর এবং দক্ষিণ উভয় বঙ্গেই হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। দক্ষিণবঙ্গে বিশেষ করে ঝাড়গ্রাম, দুই মেদিনীপুর, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় বজ্রবিদ্যতসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে এই জেলাগুলোতে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। আর বাকি জেলাগুলিতে বিচ্ছিন্ন ভাবে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানাচ্ছে হাওয়া অফিস।
আরও পড়ুন: তেল, গ্যাস অতীত! ভারতের সামনে আরও বড় সংকট
এদিকে উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলা যথাঃ দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা জারি করা হয়েছে। আর মালদা এবং দুই দিনাজপুরে হালকা বৃষ্টি হতে পারে। হাওয়া অফিসের মতে, বঙ্গোপসাগর থেকে আসা প্রচুর পরিমাণ জলীয় বাষ্প আর বায়ুমণ্ডলের উপরিভাগের অস্থিরতার কারণেই আবহাওয়ার এই বদল। এমনকি বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণও স্বাভাবিকের তুলনায় অনেকটাই বেশি। এখন দেখার এই অস্বস্তিকর আবহাওয়া কবে ঠিক হয়।