সৌভিক মুখোপাধ্যায়, হাবড়া: নতুন অর্থবছর শুরু হতে আর মাত্র একটা মাস বাকি। তবে তার আগেই প্যান কার্ড (Pan Card) সংক্রান্ত বেশ কিছু নিয়মের ইঙ্গিত মিলল। ১ এপ্রিল থেকে ড্রাফট ইনকাম ট্যাক্স রুলস ২০২৬ কার্যকর হলেও বিভিন্ন আর্থিক ক্ষেত্রে চালু হতে পারে নতুন নিয়ম। এর ফলে সম্পত্তি কেনাবেচা থেকে শুরু করে হোটেলের বিল বা বীমা কিংবা বড় বড় কেনাকাটার ক্ষেত্রে প্যান কার্ড ব্যবহারে বিভিন্ন রকম পরিবর্তন আসছে।

সম্পত্তি কেনাবেচায় বাড়তে পারে সীমা

বলে রাখি, বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী ১০ লক্ষ টাকা কিংবা তার বেশি দামের সম্পত্তি কেনাবেচার ক্ষেত্রে প্যান কার্ড বাধ্যতামূলক। কিন্তু নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, এবার সেই সীমা বাড়িয়ে ২০ লক্ষ টাকা করা হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবর্তনের ফলে দেশের টায়ার-১ ও টায়ার-৩ শহরে বসবাসকারী মানুষ সুবিধা পাবে। পাশাপাশি গ্রাম্য এলাকার মানুষজনও ভোগান্তিতে পড়বে না। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, ভবিষ্যতে ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স সংক্রান্ত জটিলতা এড়ানোর জন্য সম্পত্তি লেনদেনের ক্ষেত্রে প্যান কার্ড ব্যবহার করায় সবথেকে বুদ্ধিমানের কাজ।

নগদ লেনদেনে বাড়বে নজরদারি

অন্যদিকে নতুন নিয়মে নগদ লেনদেনের উপর নজরদারি আরও বাড়ানো হতে পারে। বছরে মোট ১০ লক্ষ টাকার বেশি নগদ জমা কিংবা উত্তোলন হলে প্যান কার্ড যাচাই বাধ্যতামূলক করা হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হল দেশের ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আরও বাড়ানো এবং বড় অংকের নগদ লেনদেনের উপর নজরদারি করা।

গাড়ি বা বাইক কিনতে লাগবে প্যান কার্ড

নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, এবার ৫ লক্ষ টাকার বেশি দামের গাড়ি কিংবা বাইক কিনতে গেলেই প্যান কার্ড দেওয়া বাধ্যতামূলক হতে পারে। এর ফলে বড় অঙ্কের যানবাহন কেনার ক্ষেত্রে আর প্যান কার্ড ছাড়া লেনদেন করা যাবে না। পাশাপাশি বর্তমানে হোটেলে ৫০ হাজার টাকার বেশি বিল হলে প্যান কার্ড দিতে হয়। কিন্তু নতুন নিয়মে সেই সীমা বাড়িয়ে এবার ১ লক্ষ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, ১ লক্ষ টাকার বেশি বিল হলে তখন প্যান কার্ড দেখাতে হবে।
আরও পড়ুন: সুদ পাবেন ১ লাখ ২৩ হাজার, সেরা স্কিম পোস্ট অফিসের
এছাড়াও বীমা সংক্রান্ত নিয়মে কিছু পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। আগে বছরে ৫০ হাজার টাকার বেশি প্রিমিয়াম হলে প্যান কার্ডের প্রয়োজন পড়ত। তবে নতুন নিয়ম কার্যকর হলে যে কোনও বীমা পলিসি নেওয়ার ক্ষেত্রে প্যান কার্ড দেওয়া বাধ্যতামূলক লাগতে পারে। সরকারের মূল লক্ষ্য একটাই, বড় অংকের আর্থিক লেনদেনের উপর নজরদারি বাড়ানো এবং জালিয়াতি এড়ানো। সেই কারণেই এই পদক্ষেপ। কিন্তু এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। কারণ, সরকারিভাবে এখনো এই বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি।