সৌভিক মুখোপাধ্যায়, হাবড়া: দিনের পর দিন আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাবে দেশের অভ্যন্তরে গ্যাসের সংকট (LPG Crisis) বাড়ছে। ইরানকে ঘিরে পশ্চিম এশিয়ায় চলা যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহ নিয়েছে উদ্বেগ যে বাড়ছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আর তারই প্রভাব এবার পড়তে পারে রাজ্যের স্কুলগুলোর মিড ডে মিলের উপরে। পর্যাপ্ত পরিমাণে রান্নার গ্যাস না থাকার কারণে অনেক স্কুল কর্তৃপক্ষের মধ্যে ইতিমধ্যেই অনিশ্চয়তা দেখা যাচ্ছে। তাহলে কি গ্যাস না থাকলে স্কুল পড়ুয়াদের খাবার রান্না বন্ধ হবে?

গ্যাসের খোঁজে শিক্ষকদের দৌড়ঝাঁপ

দক্ষিণ ২৪ পরগনার মথুরাপুর এলাকার কৃষ্ণচন্দ্রপুর হাইস্কুলে মঙ্গলবার এমনই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। স্কুলের শিক্ষকরা রান্নার জন্য বিকল্প জ্বালানি খুঁজতে বেরিয়ে পড়েছেন। প্রথমে কাঠের দোকানে খোঁজ করা হলেও সেখানে পর্যাপ্ত পরিমাণে কাঠ না পাওয়ার কারণে তাঁরা জঙ্গল থেকেই গাছ কেটে আনার কথা ভাবতে বাধ্য হন। এমতাবস্থায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বিডিও অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। বলা বাহুল্য, স্কুলের প্রধান শিক্ষক চন্দন মাইতি জানিয়েছেন, তাঁদের স্কুলে আনুমানিক ২২০০ পড়ুয়া রয়েছে। আর প্রতিদিন অন্তত ১৫০০ জন পড়ুয়ার জন্য মিড ডে মিল রান্না করা হয়। তিনি বলেছেন, প্রতিদিন রান্নার জন্য প্রায় দেড়খানা করে গ্যাস সিলিন্ডার লাগে। কিন্তু সরবরাহকারী সংস্থা জানিয়ে দিয়েছে যে, আপাতত আর সিলেন্ডার দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। আর এই অবস্থায় কীভাবে খাবার তৈরি হবে তা নিয়ে আমরা উদ্বেগের মধ্যে পড়েছি। তিনি আরও বলেছেন, কাঠের দোকানেও এখন পর্যাপ্ত পরিমাণ জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে না। আর ছোটদের আমরা নিজেরাই পরিবেশ রক্ষার কথা শেখাচ্ছি। সেই অবস্থায় গাছ কেটে রান্না করে আমাদের পক্ষে যে সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

অন্যান্য জেলাতেও উদ্বেগ

এদিকে একই পরিস্থিতির কথা জানিয়েছেন বাঁকুড়ার খ্রিস্টান কলেজিয়েট স্কুলের প্রধান শিক্ষক কামাখ্যা বিশ্বাস। তিনি জানিয়েছেন, তাঁদের স্কুলে তিনদিনে অন্তত দুটি গ্যাস সিলিন্ডার প্রয়োজন হয়। আর সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে মিড ডে মিল চালানো কঠিন হয়ে পড়বে। পাশাপাশি নদীয়া জেলার বড়জাগুলীর গোপাল অ্যাকাডেমিতেও একইরকম উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রাজকুমার হাজরা জানিয়েছেন, তাঁদের স্কুলে প্রায় ৭০০ জন পড়ুয়ার মিড ডে মিল রান্না করা হয়। বর্তমানে অতিরিক্ত গ্যাস মজুদ নেই। যার ফলে সরবরাহ না আসলে সমস্যা তৈরি হতে পারে।
আরও পড়ুন: মূল্যবৃদ্ধির বাজারে ৩০০ টাকা ডিসকাউন্টে পাওয়া যাচ্ছে রান্নার গ্যাস, দেখে নিন কারা পাবেন
তবে হ্যাঁ, রাজ্য সরকারের মিড ডে মিল প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত একাধিক স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিভিন্ন স্কুল থেকে এই সমস্যার কথা তাঁদের সঙ্গে আলোকপাত করা হয়েছে। কিন্তু স্কুলগুলোকে গ্যাস সরবরাহের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড়ের তালিকায় রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি। আর প্রশাসনের তরফ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, কোথায় কোথায় সমস্যা হচ্ছে তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।