বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের আগে লক্ষীর ভান্ডার (SBI On Lakshmir Bhandar), যুবসাথী, ভূমিহীন ক্ষেতমজুরের মতো প্রকল্প শাসক দলের জন্য আত্মরক্ষার বড়সড় অস্ত্র। এমনটাই মনে করেন বিশ্লেষক মহলের একটা বড় অংশ। বিশেষ করে লক্ষ্মীর ভান্ডারের মতো নারী কেন্দ্রিক প্রকল্পগুলি সরকারকে নির্বাচনের আগে একটা বড় অংশের ভোটার সংগ্রহ করে দেয়। তবে শুধু বাংলা নয়, পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও দেশের অন্যান্য যেসব রাজ্যগুলিতে লক্ষীর ভান্ডার বা লাডলি বেহেনের মতো নারী কেন্দ্রিক প্রকল্প চালু রয়েছে সেইসব রাজ্যে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে অনেকটাই এগিয়ে মহিলারা। এমনটাই দাবি করা হচ্ছে স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার (State Bank Of India) প্রতিবেদনে।
মাসিক ভাতা দেওয়ায় ভোট দিতে এগিয়ে আসছেন নারীরা!
SBI এর ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও দেশের অন্যান্য যেসব রাজ্যে নারী কেন্দ্রিক বিভিন্ন প্রকল্প চালু করা হয়েছে এবং যেসব প্রকল্পের আওতায় প্রত্যেক মাসে মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে নির্দিষ্ট অর্থ প্রদান করা হয় সেই সব রাজ্যের সরকারের কোষাগার যথেষ্ট চাপে আছে। তবে ওই প্রতিবেদন এও বলছে, কোষাগারের টান রেখেও এইসব নারী কেন্দ্রিক প্রকল্প দিয়ে রাজ্যের মহিলাদের বুথমুখী করা গিয়েছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি সমীক্ষা দাবি করছে, পশ্চিমবঙ্গ সহ মধ্যপ্রদেশ, বিহার, মহারাষ্ট্রের মতো রাজ্যগুলিতে যেখানে নারী কেন্দ্রিক প্রকল্প চালু রয়েছে, সেইসব রাজ্যের নারীরা ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে সবথেকে এগিয়ে। হ্যাঁ, প্রতিবেদন বলছে মাসিক ভাতার মধ্যে দিয়ে মহিলাদের একটা বিরাট অংশের ভোট পেয়ে থাকে শাসক দল। এও দাবি করা হচ্ছে, যেসব মহিলারা পারিবারিক নানান কাজের চাপে ভোট দিতে যেতেন না তারাও 2024 সালের নির্বাচন থেকে ভোট দিতে শুরু করেছেন। এক কথায়, বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্য সরকারের বিরাট মাস্টার স্ট্রোক লক্ষীর ভান্ডারের মতো নারী কেন্দ্রিক প্রকল্পগুলি।
অবশ্যই পড়ুন: রবিবার বাড়ি থেকে বেরোলেই পড়বেন সমস্যায়! হাওড়া ও শিয়ালদহ ডিভিশনে বাতিল একগাদা ট্রেন
উল্লেখ্য, সম্প্রতি রাজ্যের অন্তর্বর্তী বাজেটে লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্পের মাসিক ভাতা 500 টাকা করে বাড়িয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। সপ্তদশ বিধানসভার শেষ অধিবেশন চলাকালীন বাজেট পেশ করে সে কথাই জানান অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। আর এই ঘোষণার পর থেকেই বর্ধিত ভাতা পেতে শুরু করেছেন রাজ্যের লক্ষীরা। বলে রাখি, রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তে বর্তমানে সাধারণ শ্রেণীভুক্ত মহিলারা 1500 টাকা করে পান। অন্যদিকে তপশিলি জাতি এবং উপজাতিভুক্ত মহিলারা লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্প থেকে 1700 টাকা পাচ্ছেন ।