সৌভিক মুখোপাধ্যায়, হাবড়া: বেশিরভাগ মানুষই মনে করেন অবসর মানেই হয়তো ৬০ বছর বয়স। তবে যদি সঠিক পরিকল্পনা (Retirement Plan) থাকে, তাহলে ৪০ বছর বয়সেই অবসর নেওয়া সম্ভব। কিন্তু তার জন্য প্রয়োজন সঠিক বিনিয়োগের কৌশল আর নিয়মিত সঞ্চয়। এতে অবসরের পরেও মাসে প্রায় ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারবেন। এবার নিশ্চয়ই ভাবছেন কীভাবে? জানতে হলে অবশ্যই এই প্রতিবেদনটি পড়ুন।
৪০ বছরে অবসর নিতে কত টাকার ফান্ড দরকার?
ধরুন, কেউ ৪০ বছর বয়সে অবসর নিলেন এবং তিনি ৮০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকলেন। অর্থাৎ, অবসরের পরেও তাঁর সামনে আরও ৪০ বছর বা ৪৮০ মাসের খরচ বহন করতে হবে। আর সেক্ষেত্রে যদি প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা করে খরচ হয়, তাহলে তাঁর মোট কত টাকার সঞ্চয় দরকার তা নির্ভর করবে সম্পূর্ণ মুদ্রাস্ফীতির উপরেই। কারণ, আজ যে ৫০ হাজার টাকায় চলা সম্ভব, ভবিষ্যতে হয়তো তা দিয়ে চলা সম্ভব নাও হতে পারে। কারণ, টাকার ক্ষমতা অনেকটাই কমে যেতে পারে। তাই এমনভাবে নিজেকে তৈরি করতে হবে, যা থেকে নিয়মিত আয় পাওয়া যাবে আর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই টাকা বাড়বে। আর্থিক বিশেষজ্ঞরা বলছে, সাধারণত অবসরের পরিকল্পনার ক্ষেত্রে দুটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম মেনে চলতে হয়। প্রথমত রয়েছে ৪% নিয়ম। এই নিয়ম অনুযায়ী, যদি আপনি মোট সঞ্চয়ের ৪% প্রতি বছর খরচ করেন, তাহলে সেই সঞ্চয় দীর্ঘ সময় পর্যন্ত টিকে থাকবে। যদি বছরে খরচ হয় ৬ লক্ষ টাকা, তাহলে প্রয়োজন পড়বে ১.৫ কোটি টাকার মতো ফান্ড। আর দ্বিতীয়ত রয়েছে ৩% নিয়ম। কারণ, ভারতের মতো দেশে মুদ্রাস্ফীতি বেশি হওয়ার কারণে অনেক বিশেষজ্ঞ নিরাপদ পদ্ধতি হিসেবে এই সূত্রটি মেনে চলার পরামর্শ দেন। সেক্ষেত্রে বছরে ৬ লক্ষ টাকা খরচ করতে চাইলে প্রয়োজন পড়বে ২ কোটি টাকার ফান্ড।
কীভাবে সাজাবেন পোর্টফলিও?
এখন শুধু যে টাকা জমিয়ে রাখলে হবে এমনটা নয়। সেই টাকা সঠিকভাবে বিনিয়োগ করতে হবে যাতে ভবিষ্যতে তা মোটা অংকের ফান্ডে পরিণত হয় এবং নিয়মিত আয় দেয়। ধরুন, আপনার কাছে ২ কোটি টাকা রয়েছে। সেই টাকার ৪০ থেকে ৫০% আপনি ইক্যুইটি বা শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করতে পারেন। সেক্ষেত্রে দীর্ঘ মেয়াদে বেশি পরিমাণে রিটার্ন আসবে। এরপর ৩০ থেকে ৪০% ডেট ফান্ড বা সরকারি বন্ডে বিনিয়োগ করতে পারেন। এক্ষেত্রে স্থিতিশীল আয় আসবে। আর ১০ থেকে ২০% নিরাপদ সঞ্চয় যেমন ফিক্সড ডিপোজিট, লিকুইড ফান্ডে রাখতে পারেন। এই ধরনের ভারসাম্যপূর্ণ পোর্টফোলিও বাজারে ওঠানামার মধ্যে খাপ খাইয়ে নিতে সাহায্য করবে।
আরও পড়ুন: পাঁচ বছর ধরে টাকা ঢুকছে অন্য অ্যাকাউন্টে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে ফের দুর্নীতির অভিযোগ
তবে হ্যাঁ, শেয়ার বাজার যে সবসময় একরকম থাকে এমনটা নয়। কখনো কখনো ধসও নেমে আসে। তার জন্য আবার জনপ্রিয় পদ্ধতি রয়েছে বাকেট স্ট্রাটেজি। এই পদ্ধতিতে আপনার টাকা তিনটি আলাদা আলাদা ভাগে রাখা হবে। প্রথম বাকেটে আপনি দুই থেকে তিন বছরের খরচের টাকা রাখবেন। সেক্ষেত্রে প্রায় ১২ থেকে ১৮ লক্ষ টাকা ফিক্সড ডিপোজিট বা লিকুইড ফান্ডে রাখা যেতে পারে। তারপর দ্বিতীয় বাকেটে পরবর্তী চার থেকে সাত বছরের খরচের টাকা ডেট ফান্ড বা তুলনামূলকভাবে নিরাপদ বিনিয়োগের মাধ্যমে রাখতে হবে। আর বাকি টাকা তৃতীয় বাকেট অর্থাৎ ইক্যুইটি বা শেয়ারবাজারে দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ করতে হবে, যাতে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই অর্থ বাড়ে।