সৌভিক মুখোপাধ্যায়, হাবড়া: রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (Dearness Allowance) মেটানো। আর সম্প্রতি সেই দাবির প্রেক্ষিতেই বিরাট ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সামাজিক মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ২০০৯ সালের রোপা নিয়ম অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ দেওয়া হবে। কিন্তু ঘোষণার পরেও এখনো পর্যন্ত রাজ্য সরকারের তরফ থেকে কোনও রকম আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। যার ফলে কর্মী মহলে প্রশ্ন উঠছে, ঘোষণা হলেও কবে সেই টাকা মিটবে?

দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পরেই মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা

প্রসঙ্গত, রাজ্যের বকেয়া ডিএ বিতর্ক নতুন কোনও ঘটনা নয়। ২০১৬ সাল নিয়ে একাধিক মামলা হয়েছে। আর প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল থেকে শুরু করে কলকাতা হাইকোর্ট পর্যন্ত বিষয়টি গড়ায়, এবং বেশ কয়েকবার রাজ্য সরকার আইনি লড়াইয়ে পরাজিত হয়েছিল। অবশেষে চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয় যে, বকেয়া মহার্ঘ ভাতা দ্রুত মেটাতে হবে আর প্রথম কিস্তির টাকা ৩১ মার্চের মধ্যেই দেওয়ার কথা জানানো হয়। এদিকে প্রথমে রাজ্য সরকার এই সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন করলেও শেষ পর্যন্ত আদালতের নির্দেশের পর বকেয়া ডিএ দেওয়ার ঘোষণা করা হয়। তবে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণায় জানানো হয়েছে, শুধুমাত্র সরকারি দফতরের কর্মচারীরা নন, বরং আরও অনেকেই এই সুবিধা পাবে। যার মধ্যে রাজ্য সরকারি দফতরের কর্মচারী আর আধিকারিক, সরকার ও সরকারপোষিত স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মী, পঞ্চায়েত এবং পৌরসভার কর্মী, বিভিন্ন বোর্ড ও কর্পোরেশনের সঙ্গে যুক্ত কর্মীরাও এই সিদ্ধান্তের ফলে উপকৃত হবে।
আরও পড়ুন: অষ্টম পে কমিশনে কর্মচারীদের বেতন বাড়বে ৩৫%! দেখুন হিসাব
তবে ঘোষণায় কিছুটা স্বস্তি আসলেও কর্মচারীদের একাংশ পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন। কারণ, বিভিন্ন কর্মী সংগঠনের দাবি, দীর্ঘ ১০ বছরের আইনি লড়াইয়ের ফলে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাদের মতে। আদালতের নির্দেশ না থাকলে হয়তো এই ঘোষণা কোনও ভাবেই করা যেত না। তবে অন্যদিকে বিজেপি, সিপিআইএম এবং কংগ্রেসের মতো বিরোধী দলগুলি এই ঘোষণায় নির্বাচনের আগে ভোটের চমক বলেই মনে করছে। আর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বাচনের আগে নতুন প্রকল্প আর বিপুল পরিমাণ ঘোষণা রাজ্যের কোষাগরের উপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এখন দেখার, রাজ্য সরকার সেই চাপ কীভাবে সামাল দেয়।