সৌভিক মুখোপাধ্যায়, হাবড়া: অবসর সময়ে অর্থাৎ বৃদ্ধ বয়সে যাতে সংসার চালাতে কোনও অসুবিধা না হয় তার জন্য কেন্দ্র ও রাজ্য উভয় সরকারের তরফ থেকে দেওয়া হয় বার্ধক্য ভাতা (Old Age Pension)। এতদিন এই ভাতা বাবদ ১০০০ টাকা দেওয়া হত। তবে এবার সেই ভাতা বাড়িয়ে মাসিক ১৫০০ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হল, যাকে ঘিরে নতুন করে কেন্দ্র এবং রাজ্যের মধ্যে বেঁধেছে সংঘাত। রাজ্য সরকারের দাবি, কেন্দ্র একাধিক প্রকল্পে বাংলার প্রাপ্য বিপুল পরিমাণ টাকা এখনও পর্যন্ত আটকে রেখেছে। আর সেই পরিস্থিতিতে সামাজিক সুরক্ষা খাতে রাজ্যের উপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করা হলে তা চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।

চাপের মধ্যে রাজ্য

রাজ্য সরকারের দাবি, ১০০ দিনের কাজসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলে প্রকল্পে বাংলার প্রাপ্য টাকা এখনও পর্যন্ত মেটায়নি কেন্দ্র। সেই সূত্রে সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পে ভাতা বাড়ানো নিয়ে এবার আপত্তি তুলেছে নবান্ন। যদিও প্রবীণ নাগরিকদের স্বার্থে ভাতা বৃদ্ধির বিরোধিতা করেনি রাজ্য সরকার। কিন্তু কেন্দ্রের আর্থিক সহায়তা ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে এই ভাতা ধোপে টিকবে কিনা তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। জানিয়ে রাখি, বর্তমানে জাতীয় সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় ৬০ থেকে ৭৯ বছর বয়সীদের কেন্দ্র সরকার মাসে ২০০ টাকা আর ৮০ ঊর্ধ্বদের জন্য ৫০০ টাকা করে ভাতা দেয়। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গ সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে অতিরিক্ত অর্থ যোগ করে মোট ১০০০ টাকা ভাতা দিয়ে থাকে। রাজ্যের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ২১ লক্ষ প্রবীণ নাগরিক এই ভাতা পান। এছাড়াও জয় বাংলা প্রকল্পের আওতায় আরও ১ কোটির বেশি উপভোক্তা মাসিক ১০০০ টাকা করে ভাতা পায়। সব মিলিয়ে রাজ্য সরকারের বছরে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয় হচ্ছে।
আরও পড়ুন: বন্ধ হচ্ছে UTS! বিকল্প অ্যাপ RailOne দিয়ে মান্থলি টিকিট কীভাবে কাটবেন? রইল প্রসেস

কেন্দ্রের নতুন প্রস্তাব

এদিকে কেন্দ্রীয় স্তরের আলোচনা অনুযায়ী, প্রবীণ নাগরিকদের ভাতা এবার বাড়িয়ে ৬০০ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আগামী অর্থ কমিশন থেকে এই অর্থের সম্পূর্ণটা কেন্দ্র দেবে না। প্রস্তাব মারফৎ, ৬০০ টাকার মধ্যে ৬০ শতাংশ অর্থাৎ ৩৬০ টাকা কেন্দ্র দেবে আর বাকি টাকা রাজ্যকেই বহন করতে হবে। সেক্ষেত্রে ভাতার পরিমাণ ১৫০০ টাকা নিয়ে যেতে গেলে রাজ্যকে নিজের অংশ অনেকটাই বাড়াতে হবে। এই নিয়েই আপত্তি তুলেছে নবান্ন। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রবীণ নাগরিকদের সামাজিক সুরক্ষা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। কিন্তু অর্থের যোগান স্পষ্ট না হলে বাস্তবে সমস্যা তৈরি হবে। রাজ্য সরকারের এখন একটাই দাবি, প্রাপ্য অর্থ যাতে দ্রুত মেটানো হয় তার ব্যবস্থা করা। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় চাইছে যৌথ উদ্যোগে ভাতা বাড়াতে। আর এই নিয়ে কেন্দ্র এবং রাজ্যের মধ্যে চলছে টানাপোড়েন।