বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: ইরান যুদ্ধে হরমুজ হয়ে আসতে পারছে না ভারতের তৈলবাহী জাহাজ। তাতে আগামী দিনে দেশে তেল এবং গ্যাসের দাম অনেকটাই বাড়বে (Oil Price Hike In India) বলেই আশঙ্কা করছিলেন দেশবাসী। তবে সূত্রের খবর, ভারতে যাতে তেল এবং গ্যাস কোনওটিরই দাম ঊর্ধ্বমুখী না হয় সেদিকেই নজর রেখেছে নয়া দিল্লি। জানা যাচ্ছে খুব শীঘ্রই এ নিয়ে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করতে পারে নরেন্দ্র মোদির সরকার। কয়েকটি বিশ্বস্ত সূত্র মারফত খবর, মধ্যপ্রাচ্যে যাই হয়ে যাক ভারতে তেল সহ অন্যান্য জ্বালানির দাম যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায় সেটাই নিশ্চিত করতে বড় পদক্ষেপ নিতে পারে কেন্দ্র।

দেশবাসীর পকেটে যাতে চাপ না পড়ে সেদিকেই নজর কেন্দ্রের

বিগত কয়েকদিনের যুদ্ধে ভারতের তেলের ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, আগামী কিছুদিন এভাবে চলতে থাকলে দেশে তেল নিয়ে একপ্রকার হাহাকার তৈরি হতে পারে। এর জেরে তেল সহ অন্যান্য জ্বালানির দাম অনেকটাই বাড়বে। যদিও এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে কোনও মন্তব্য মেলেনি। তবে জ্বালানি খাতের কয়েকজন বিশেষজ্ঞ এবং কয়েকটি বিশ্বস্ত সূত্র দাবি করছে, বিশ্বের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ভারতে যাতে কোনও ভাবেই তেল সহ অন্যান্য জ্বালানি পণ্য দ্রব্যের দাম আকাশ ছোঁয়া না হয় সেদিকেই নজর রেখেছে কেন্দ্রীয় সরকার। আপাতত যা খবর, দেশে তেলের যোগান অব্যাহত রাখতে প্রতি মুহূর্তে চলছে বৈঠক। কেন্দ্রীয় সরকারের কয়েকজন আধিকারিকও মনে করছেন, আগামী আর কিছুদিনের মধ্যেই ভারতের তেলের সরবরাহ অব্যাহত রাখতে বড়সড় পদক্ষেপ নিতে পারে নয়া দিল্লি। আর সেই পদক্ষেপ কী হতে পারে সেটা আগে থেকেই বুঝে গিয়েছেন দেশবাসী। সব ঠিক থাকলে, কঠিন সময়ে ভারতের ত্রাতা হয়ে উঠতে পারে রাশিয়া। কারণ ইতিমধ্যেই নাকি রাশিয়া থেকে প্রথম পর্বে 95 লাখ ব্যারেল তেল আমদানির প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত।
অবশ্যই পড়ুন: ফুটপাতের ছোট্ট দোকান থেকে শুরু যাত্রা, ভারতের এই ব্যক্তি এখন ১৬ হাজার কেজি সোনার মালিক

আমেরিকার তরফে ছাড়পত্র

ইরান যুদ্ধের আবহে ভারতে তেলের ঘাটতি যাতে না দেখা দেয় সেজন্য আমেরিকার তরফে নয়া দিল্লিকে 30 দিনের জন্য রাশিয়া থেকে তেল কেনার ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। শোনা যাচ্ছে, ওয়াশিংটনের বেঁধে দেওয়ার সময় রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ তেল আমদানি করতে পারবে, নয়া দিল্লি। তাতে আলাদা করে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। সূত্রের খবর, সবদিক মাথায় রেখেই রাশিয়া থেকে তেল আমদানি যত দ্রুত সম্ভব শুরু করে দেবে ভারত। তবে এসবের মাঝেই অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, ভারত একটি সর্বভৌম এবং স্বাধীন দেশ। তারা কার কাছ থেকে তেল কিনবে সেটা আমেরিকা কীভাবে ঠিক করে দিতে পারে? প্রশ্ন উঠছে মোদি সরকারের অভ্যন্তরীণ নীতি ও বিভিন্ন গোপন চুক্তি নিয়েও!