সৌভিক মুখোপাধ্যায়, হাবড়া: সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থানের বার্তা দিয়ে এবার ইজরায়েলের সংসদে ঐতিহাসিক ভাষণ দিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। দুই দিনের সফরে গিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইতে ভারত এখন ভবিষ্যতে ইজরায়েলের পাশেই থাকবে। পাশাপাশি কূটনৈতিক থেকে শুরু করে বাণিজ্যিক সম্পর্কের উন্নতি নিয়েও হয়েছে বিস্তর আলোচনা।
ঐতিহাসিক ভাষণ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর
বলাবাহুল্য, প্রথম কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ইজরায়েলের সংসদে বক্তব্য রেখেছেন। এদিন তেল আভিভে পৌঁছনোর পর বিমানবন্দর থেকে আলিঙ্গন করেই ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু তাঁকে স্বাগত জানিয়েছেন। সফরের প্রথম দিন সংসদে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী অতীত আর বর্তমান দুই প্রেক্ষাপটে ভারত এবং ইজরায়েলের সম্পর্কে গভীরতা তুলে ধরেন। ভাষণে মোদী ২০২৩ এর ৭ অক্টোবর ইজরায়েলে হামাসের হামলার প্রসঙ্গ তুলেছেন। তিনি বলেছেন, সেখানে প্রায় ১২০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। নিহতদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তাঁর বক্তব্য, ভারত তাঁদের যন্ত্রণা বোঝে। আর এই কঠিন সময়ে ভারত তাঁদের পাশেই রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি ২০০৮ সালের ২৬/১১ মুম্বাই সন্ত্রাসী হামলার কথা স্মরণ করেছেন। আর সেই হামলায় ইজরায়েলের নাগরিক সহ বহু নিরীহ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনও কারণে নিরীহ নাগরিকদের হত্যাকে বৈধতা বলে মেনে নেওয়া যায় না। সন্ত্রাসবাদ কখনো সমাধান হতে পারে না। পাশাপাশি ভাষণে ভারতের প্রধানমন্ত্রী প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়কার ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ৪০০০ এর বেশি ভারতীয় সৈনিক পশ্চিম এশিয়ার এই অঞ্চলে প্রাণ দিয়েছিলেন। আর ১৯১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে হাইফায় ভারতীয় অশ্বারোহী বাহিনীর অভিযানের কথা স্মরণ করিয়ে তিনি বলেন, এটি সামরিক ইতিহাসের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ছিল।
আরও পড়ুন: অবস্থা ভাল নয় রিঙ্কু সিংয়ের বাবার, বিশ্বকাপের মাঝেই কঠিন খবর!
ভারত-ইজরায়েল কৌশলগত সহযোগিতায় জোর
প্রসঙ্গত, দু’দিনের সফরে প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি উদ্ভাবন, ব্যবসা, কৃষি, জল ব্যবস্থাপনা সহ একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি একাধিক সমঝোতা স্মারক সাক্ষরিত হতে পারে বলেও কূটনৈতিক সূত্রগুলি দাবি করছে। এমনকি ভারত-ইজরায়েল সম্পর্ক গত কয়েক বছর কৌশলগত অংশদারিত্বেও রূপ নিয়েছে। আর প্রতিরক্ষা এবং উচ্চ প্রযুক্তি ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতাও বেড়েছে বলে দাবি করছে ওয়াকিবহাল মহল।