সৌভিক মুখোপাধ্যায়, হাবড়া: রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের আর্থিক সহায়তা করার জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফ থেকে চালু করা হয়েছে যুবসাথী প্রকল্প (Banglar Yuva Sathi)। মুখ্যমন্ত্রীর কথা অনুযায়ী, ইতিমধ্যে এই প্রকল্পের ভাতা বাবদ প্রতি মাসে ১৫০০ টাকা করে বেকারদের অ্যাকাউন্টে জমা পড়ছে। তবে এবার তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। অনেক উপভোক্তা অভিযোগ করছেন যে, আবেদন সফল দেখালেও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে কোনও রকম টাকা পৌঁছয়নি। এই সমস্যা দ্রুত সমাধান করার জন্যই প্রশাসনকে নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?
প্রসঙ্গত, এই প্রকল্প চালু হওয়ার পর অনেক আবেদনকারী সরকারী ক্যাম্প থেকে ফর্ম সংগ্রহ করেছিল বা অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করেছিল। আর ৭ মার্চ থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর কথা অনুযায়ী ধাপে ধাপে উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা জমা পড়া শুরু হয়েছে। কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, আবেদন স্ট্যাটাস সাকসেসফুল দেখালেও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে কোনও রকম টাকা ঢোকেনি। মুখ্যমন্ত্রী এবার এই ধরনের সমস্যাগুলি দ্রুত খতিয়ে দেখার জন্য নির্দেশ দিলেন প্রশাসনকে। বৃহস্পতিবার নবান্নে প্রশাসনিক বৈঠক করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সূত্রের খবর, ওই বৈঠকে রাজ্যের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তর আলোচনা করা হয়। সেখানে মমতা জানান, যে কোনও সময় রাজ্যে নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করা হতে পারে। আর নির্বাচন ঘোষণা হলে আদর্শ আচরণবিধি মেনে কাজ করতে হবে। তাই তার আগে নতুন প্রকল্পের কাজ দ্রুত শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে সরকারি ঘোষণায় বলা হয়েছিল, পয়লা এপ্রিল থেকে উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে এই প্রকল্পের টাকা পাঠানো শুরু হবে। কিন্তু প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে নির্ধারিত সময়সীমার আগেই অর্থাৎ ৭ মার্চ থেকেই এই প্রকল্পের টাকা পাঠানো শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুন: রোদের দেখা মিললেও বৃষ্টিতে ভিজবে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলা! আজকের আবহাওয়া
না বললেই নয়, রাজ্য সরকারের এই যুবসাথী প্রকল্পের মাধ্যমে ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সী বেকার যুবক-যুবতীদের আর্থিক সহযোগিতা করা হয়। প্রতিমাসে ১৫০০ টাকা করে বেকাররা আর্থিক সহায়তা পাচ্ছে এবং সর্বোচ্চ পাঁচ বছর এই সুবিধা মিলবে। তবে এর জন্য অবশ্যই মাধ্যমিক পাস করতে হবে। এক্ষেত্রে আরও উল্লেখ করার বিষয়, যুবসাথী প্রকল্পের পাশাপাশি রাজ্যের অন্তরবর্তী বাজেটে ভূমিহীন ক্ষেতমজুদদের জন্যও বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাদেরও এই প্রকল্প বাবদ প্রতি মাসে ২০০০ টাকা করে পাঠানো শুরু হয়েছে রাজ্যের তরফ থেকে।