বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: সরকারি কর্মীদের দীর্ঘকালীন বকেয়া DA নিয়ে দেশের শীর্ষ আদালত অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্ট কড়া নির্দেশ দিলেও কোনও নড়চড় নেই রাজ্যের (West Bengal DA Case)। যার জেরে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিরুদ্ধে ক্রমেই ক্ষোভ বাড়ছে এ বঙ্গের সরকারি কর্মচারীদের। ঠিক কবে থেকে রাজ্যের সরকারি কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা দেওয়া হবে তার উত্তর নেই কারও কাছে। এরই মাঝে, ফের রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া অর্থ নিয়ে মুখ খুললেন DA মামলাকারী মলয় মুখোপাধ্যায়। ভিডিও বার্তায়, 2008 থেকে 2020 সাল পর্যন্ত বকেয়া DA নিয়ে কী কী নির্দেশ এসেছে সে সবই তুলে ধরলেন তিনি।
ঠিক কী জানালেন মলয় বাবু?
নিজের ফেসবুক হ্যান্ডেলে এক ভিডিও বার্তায়, রাজ্যে সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া DA মামলা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মলয় বাবু জানান, "রাজ্য সরকারের DA নির্দেশ মেনে আজ পর্যন্ত কত শতাংশ DA দেওয়া হয়েছে এবং কেন্দ্রীয় সরকার দিল্লি, চেন্নাইতে কর্মরত কর্মীদের কত শতাংশ হারে DA দিচ্ছে তারই তালিকা চাওয়া হয়। এছাড়াও এই বকেয়া মহার্ঘ ভাতা নিয়ে উচ্চ আদালত হলফনামা চেয়েছিল রাজ্য সরকারের কাছে। সব তালিকা এবং তথ্য আমাদের কাছে আছে।" এদিন ভিডিও বার্তায় মলয় বাবু আরও বলেন, "সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়ে দিয়েছে 2008 সাল থেকে 2019 সাল পর্যন্ত যেসব সরকারি কর্মচারীদের DA বকেয়া রয়েছে তাদের প্রাপ্ত অর্থ মিটিয়ে দিতে হবে। প্রথম 25 শতাংশ দিতে হবে অবিলম্বে। এরপর বাকি অর্থ কিস্তির মাধ্যমে দিতে পারবে সরকার।" মামলাকারি মলয় মুখোপাধ্যায়ের অভিযোগ, "সরকারের কোষাগারে টাকা থাকা সত্ত্বেও কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা মেটানো হচ্ছে না। সরকারের তরফে বলা হয়েছিল 25 শতাংশ অর্থ সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া হবে। কিন্তু বাস্তবে কিছুই করা হয়নি। এসব কারণেই আমরা আদালত অবমাননার নোটিস দিই।"
অবশ্যই পড়ুন:এবার ভারতীয়দের দেওয়া হবে নাগরিকত্ব কার্ড! কারা পাবে জানুন
মলয় বাবুর দাবি, দেশের শীর্ষ আদালত আগামী 5 মার্চ পর্যন্ত গোটা বিষয়টি দেখবে। তারপরই গোটা পরিস্থিতিতে নজর রেখে মামলার শুনানির তারিখ জানানো হবে আদালতের তরফে। এদিন সরকারকে একেবারেই সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে মলয় মুখোপাধ্যায় জানান, "আমরা কিছুতেই ছেড়ে দেব না। 25 শতাংশের অর্ডার বেরিয়ে গেলে আমাদের মহার্ঘ ভাতা দিতেই হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বকেয়া DA এর 25 শতাংশ না দিলে প্রথম কিস্তির সাথে সেই অর্থ জুড়ে একসাথে 50 শতাংশ DA দিতে হবে আগামী 31 মার্চের মধ্যে। যত দ্রুত সম্ভব এই টাকা মিটিয়ে দেবে ততই লাভ সরকারের" এক কথায়, মার্চের শেষ তারিখের আগে বকেয়া DA এর একটা বড় অংশ মেটাতে হবেই সরকারকে!