সৌভিক মুখোপাধ্যায়, হাবড়া: বর্তমান যুগে ডিজিটাল লেনদেন (Online Payment) আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। ছোট দোকান বা বড় শপিং মল, সব জায়গাতেই এখন মানুষ কিউআর কোড স্ক্যান করে মোবাইল দিয়ে পেমেন্ট করে। বিশেষ করে ইউপিআই এখন নিত্যদিনের সঙ্গী। তবে এই সুযোগ নিয়েই সক্রিয় হয়ে উঠছে সাইবার প্রতারণা। সামান্য অসাবধানতা করলেই বিরাট আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন আপনি, এমনটাই জানাচ্ছ বিশেষজ্ঞরা। তাই পেমেন্ট করার সময় অবশ্যই মাথায় রাখুন এই বিষয়গুলি।
নকল কিউআর কোডই প্রতারণার আসল ফাঁদ
অনেক সময় প্রতারক দোকান বা কোনও প্রতিষ্ঠানের আসল কিউআর কোডের উপর নকল একটি কিউআর কোডের স্টিকার লাগিয়ে দেয়। যার ফলে ক্রেতা না বুঝেই সেই কোড স্ক্যান করে টাকা পাঠিয়ে দেন ওই প্রতারকের অ্যাকাউন্টে। আর এই ধরনের প্রতারণা এখন শহর থেকে গ্রাম, প্রায় সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। তাই অবশ্যই পেমেন্ট করার আগে কিছু বিষয় যাচাই করুন। ১) প্রথমত, কিউআর কোড স্ক্যান করার পর পেমেন্ট অ্যাপে যে নামটি দেখায় সেটি আগে ভালোভাবে দেখে নিন। যদি সেই নাম দোকানের নাম বা যাকে টাকা দিচ্ছেন তাঁর নামের সঙ্গে না মেলে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে পেমেন্ট ক্যানসেল করুন। ২) দ্বিতীয়ত, অনেক সময় আসল কোডের উপর একটি নকল স্টিকার লাগিয়ে দেওয়া হয়। সেই ক্ষেত্রে যদি দেখেন যে কোডটি বেঁকে রয়েছে বা আলগা মনে হচ্ছে কিংবা কোনও উপায়ে নতুন স্টিকার লাগানো হয়েছে, তাহলে সতর্ক হোন এবং সেই দোকানদারকে জিজ্ঞাসা করুন। ৩) তৃতীয়ত, অনেক সময় হোয়াটসঅ্যাপ বা এসএমএস-এ কেউ কিউআর কোড পাঠিয়ে দাবি করে যে সেটিকে স্ক্যান করলে টাকা পাওয়া যাবে। তবে বাস্তবে কিউআর কোড স্ক্যান করে কোনও দিন টাকা পাওয়া যায় না। বরং অনেক ক্ষেত্রে উল্টে আপনার অ্যাকাউন্ট থেকেই টাকা কেটে নেয়।
আরও পড়ুন: মেসেজ না এলেও ঢুকছে যুবসাথীর টাকা… চেক করুন এখনই
৪) চতুর্থত, কিছু কিছু ক্ষেত্রে কিউআর কোড স্ক্যান করার পর কোনও অচেনা বা সন্দেহজনক ওয়েবসাইট খুলে যেতে পারে। এমন হলে সেখানে কোনও সময় ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ডিটেলস বা ডেবিট কার্ডের তথ্য দেবেন না। ৫) এছাড়া অনেক দোকানে একাধিক কিউআর কোড লাগানো থাকে। তাই ভুল কিউআর কোড স্ক্যান হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। সেক্ষেত্রে সন্দেহ হলে অবশ্যই সরাসরি দোকানদার বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে নিশ্চিত হয়ে নিন যে তাঁর আসল কোড কোনটা। তাই অবশ্যই টাকা পাঠানোর আগে সতর্ক হন। নাহলে নিমেষের মধ্যেই ফাঁকা হয়ে যেতে পারে আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট।