সৌভিক মুখোপাধ্যায়, হাবড়া: প্রতিনিয়ত জাতীয় সড়কে যাতায়াত করেন? তাহলে আপনার জন্য রইল বড় খবর। কারণ, কেন্দ্র সরকার এবার নতুন নিয়ম চালু করেছে। এখন থেকে ন্যাশনাল হাইওয়ে বা জাতীয় সড়কের টোল (New Toll Rules) অতিক্রম করার সময় যদি FASTag-এ ব্যালেন্স না থাকে বা কোনও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে টাকা না কাটলে বিশেষ সাবধানতা মানতে হবে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী বকেয়া টোল মেটানোর জন্য এবার নির্দিষ্ট সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে, যা না মানলে বড় অংকের জরিমানার মুখোমুখি হতে হবে।

কী এই নতুন নিয়ম?

মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হওয়া ন্যাশনাল হাইওয়ে ফি রুলস অনুযায়ী, এবার টোল প্লাজা দিয়ে গাড়ি যাওয়ার সময় যদি টাকা না কাটা হয়, তাহলে পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই সেই বকেয়া টাকা মেটাতে হবে। সেক্ষেত্রে কোনও বাড়তি চার্জ লাগবে না। কিন্তু যদি ৭২ ঘণ্টা পার হয়ে যায় এবং গাড়ির মালিক ওই টাকা না মেটাই, তাহলে তাঁকে দ্বিগুণ টাকা জরিমানা হিসেবে গুনতে হবে। এমনকি টোল না কাটলে গাড়ির মালিকের রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বর বা ইমেইলে একটি নোটিশ পাঠানো হবে। সেখানে গাড়ির তথ্য, সময় এবং বকেয়া টাকার পরিমাণে উল্লেখ থাকবে। বলাবাহুল্য, এই নতুন নিয়ম শুধুমাত্র সাধারণ মানুষের জন্য নয়। বরং, টোল আদায়কারী সংস্থাগুলির উপরেও এবার থেকে কড়া নজরদারি চালানো হবে। যদি কোনও গাড়ির মালিক টোল সংক্রান্ত কোনও অভিযোগ জমা দেয়, সেক্ষেত্রে সংস্থাকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যেই তা নিষ্পত্তি করতে হবে। আর যদি সংস্থা পাঁচ দিনের মধ্যে অভিযোগ সমাধান করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে ওই গাড়ির বকেয়া টোলের দাবি স্বয়ংক্রিয়ভাবেই বাতিল হয়ে যাবে।
আরও পড়ুন: কলকাতায় ফের বাড়ল LPG-র দাম! এবার কত হল?
এছাড়া যদি নোটিশ পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে বকেয়া টাকা না মেটানো হয় এবং কোনও অভিযোগ অমীমাংসিত না থাকে, সেক্ষেত্রে সেই গাড়ির তথ্য সরাসরি VAHAN ডাটাবেসে নথিভুক্ত হবে। যার ফলে গাড়ির মালিক বড়সড় সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন। যেমন গাড়ির আরসি রিনিউয়াল আটকে যেতে পারে। এমনকি গাড়ি বিক্রির সময় মালিকানা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হতে পারে। কিন্তু হ্যাঁ, এই নতুন ব্যবস্থা বাধাযুক্ত টোল ব্যবস্থার প্রসারের জন্যই আনা হয়েছে। আর ডিজিটাল টোল সংগ্রহকে আরও শক্তিশালী করার জন্য নতুন নিয়ম চালু করা। তাই জাতীয় সড়কে যাতায়াত করার আগে আগেই দেখে নিন যে, আপনার FASTag-এ পর্যাপ্ত পরিমাণে ব্যালেন্স আছে কিনা।