সৌভিক মুখোপাধ্যায়, হাবড়া: মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির (Middle East War) কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা দিনের পর দিন বাড়ছে। আর তার আঁচ এসে পড়ছে এবার ভারতের বাজারেও। একদিকে বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের হাহাকার, আর অন্যদিকে সাধারণ মানুষের রান্নাঘরে গ্যাসের টানাটানি। তারই মধ্যে মধ্যবিত্তদের পকেটে চাপ দিয়ে ফের বাড়ানো হল অটোয় ব্যবহৃত এলপিজি গ্যাসের দাম (LPG Price Hike)। আজ শুক্রবার থেকে কার্যকর হচ্ছে নতুন মূল্য। কত বাড়ানো হল এবার দাম?

কলকাতায় বাড়ল গ্যাসের দাম

প্রসঙ্গত, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে অটো গ্যাসের দাম দু’বার বাড়ানো হয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, আগে প্রতি লিটার গ্যাস পাওয়া যেত ৫৭.৬৮ টাকায়। প্রথম দফায় ৫ টাকা বেড়ে হয়েছিল ৬২.৬৮ টাকা। আর এবার আরও ৮ টাকা বাড়ানো হয়েছে। যার ফলে নতুন দাম দাঁড়িয়েছে প্রতি লিটারে ৭০.৬৮ টাকা। এদিকে গ্যাসের দাম বাড়লেও পর্যাপ্ত যোগান নেই পাম্পগুলোতে। কারণ, শহরের বিভিন্ন প্রান্তের গ্যাস পাম্পে দীর্ঘ সময় ধরে লাইন দেখা যাচ্ছে। সামান্য ১ লিটার জ্বালানি সংগ্রহ করতে চালকদের ১ থেকে ২ ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। যার ফলে একদিকে যেমন চালকদের রোজগার কমেছে, অন্যদিকে যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ছে। তবে জ্বালানির দাম একধাক্কায় এতটা বাড়ার কারণে যে মাথায় হাত পড়েছে অটো চালকদের তা বলার অপেক্ষা রাখে না। অনেক রুটে ইতিমধ্যে চালক সংগঠনগুলো ভাড়া বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে। এর আগে দাম বাড়ার কারণে বেশ কিছু রুটে ৫ থেকে ৭ টাকা পর্যন্ত ভাড়া বাড়ানো হয়েছিল। আর এবার নতুন করে প্রতি লিটারে ৮ টাকা দাম বাড়ার কারণে যাত্রীদের উপর যে আরও বাড়তি চাপ পড়বে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এমনিতেই বাজারে সব জিনিসের দাম আকাশছোঁয়া। আর তার উপর যদি এই আরও ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া বাড়ে, তাহলে যে সাধারণ মানুষের সংসার চালানো দায় হয়ে পড়বে তা আঁচ করা যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝড়বৃষ্টিতে ভিজবে দুই বঙ্গের একাধিক জেলা! আজকের আবহাওয়া
বেশ কিছু বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম এশিয়ায় চলা যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা দিনের পর দিন ব্যাহত হচ্ছে। এমনকি হরমুজ প্রণালী দিয়ে গ্যাসবাহী জাহাজগুলি দেশে প্রবেশ করতে পারছে না। আর বাণিজ্যিক সিলিন্ডার না পাওয়ার কারণে অনেক হোটেল এবং রেস্তোরাঁ বন্ধের মুখে। একই সাথে রান্নার গ্যাস বুকিং করতে গেলেও পোহাতে হচ্ছে সমস্যা আর ডেলিভারি নিয়েও তৈরি হচ্ছে বিশৃঙ্খলা। এখন দেখার, এই পরিস্থিতি কবে নাগাদ স্বাভাবিক হয়।