সৌভিক মুখোপাধ্যায়, হাবড়া: বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের মাঝেই ভারতের জন্য এল বিরাট স্বস্তির খবর। হ্যাঁ, পশ্চিম এশিয়ার রণক্ষেত্র পরিস্থিতিতে যখন একের পর এক বিধ্বংসী ঘটনা ঘটছে, ঠিক তখনই ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ মর্যাদা বজায় রাখল ইরান। কৌশলগতভাবে বিশ্বের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ অর্থাৎ হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) ভারতের বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য এবার উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে তেহরানের তরফ থেকে। ফলে দেশে কাটতে চলেছে জ্বালানির সংকট।

ভারতের জন্য বিরাট সাফল্য

ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী সকলের জন্য বন্ধ নয়। বরং ইরান সরকারের সঙ্গে যাদের সুসম্পর্ক রয়েছে, সেই দেশগুলি ছাড় পাবে। সেই তালিকায় ভারতের নাম সবার উপরেই রয়েছে। এমনকি এদিন আরাঘচি আরও বলেন, ভারত ছাড়াও রাশিয়া, চিন, পাকিস্তান এবং ইরাকের জাহাজগুলো নিরাপদে হরমুজ পার করতে পারবে। আর বাংলাদেশের আরও একটি জাহাজ ইতিমধ্যে এই জলপথ দিয়ে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এদিকে ভারতকে ছাড় দিলেও শত্রু দেশগুলির প্রতি ইরান কোনও রকম সুর নরম করেনি। কারণ, বিদেশমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, আমেরিকা এবং ইজরায়েল এই দুই দেশের কোনও জাহাজকে এই হরমুজ প্রণালীতে ছাড় দেওয়া হবে না। এমনকি ইরানের বিরোধী শিবিরে থাকা উপসাগরীয় দেশগুলির জন্য এই পথ বন্ধ। আরাঘচির স্পষ্ট দাবি, ইরান যে এই জলপথ অবরুদ্ধ করার ক্ষমতা রাখে তা তারা কাজের মাধ্যমেই প্রমাণ করতে পারে।
আরও পড়ুন: ভ্যাঁপসা গরমে নাজেহাল হবে বঙ্গবাসী, বিকালের দিকে দুর্যোগ! আজকের আবহাওয়া
এদিকে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা এই ঘটনাকে ভারতের জন্য বিরাট কূটনৈতিক সাফল্য বলেই মনে করছেন। কারণ, গত কয়েক সপ্তাহে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এর জয়শংকর একাধিকবার ইরানের বিদেশ মন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে সাক্ষাৎকার করেছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সম্প্রতি ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেসিকিয়ানের সঙ্গেও ফোনে আলোচনা করেছেন বলে খবর। ভারতের এই নিরন্তর যোগাযোগের ফলেই যুদ্ধের মাঝেও দেশের জ্বালানি এবং সার আমদানির পথ সচল রয়েছে, এমনটাই মত ওয়াকিবহাল মহলের।