সৌভিক মুখোপাধ্যায়, হাবড়া: দেশের স্বপ্নের বুলেট ট্রেন প্রকল্প আরও একধাপ এগোল। হ্যাঁ, মুম্বাই-আহমেদাবাদ হাইস্পিড রেল করিডরের (Mumbai Ahmedabad Bullet Train) জন্য বহুল প্রতীক্ষিত টানেল বোরিং মেশিন আজ অর্থাৎ সোমবার রাতেই মুম্বাইয়ের জহরলাল নেহেরু বন্দরে এসে পৌঁছবে বলে বেশ কয়েকটি রিপোর্ট অনুযায়ী খবর। জানা যাচ্ছে, ২১ কিলোমিটার দীর্ঘ সুরঙ্গ পথ তৈরীর কাজে এই বিশাল আকার মেশিনটিকে ব্যবহার করা হবে। আর এতেই আমূল বদলে যাবে ভারতের বুলেট ট্রেন প্রকল্পের (High-Speed Rail in India)।
সুদূর চিন থেকে মুম্বাইয়ে আসছে টানেল বোরিং মেশিন
জার্মান সংস্থা হেরেনকনেখ্টের তৈরি এই ৩০০০ টনের মেশিনটি সুদূর চিন হয়ে ভারতে আসছে বলে খবর। গত ৭ মার্চ গুয়াংজু বন্দর থেকে রওনা দিয়ে চেন্নাই হয়ে জাহাজটি আজ রাত দশটা নাগাদ মুম্বাই বন্দরে নোঙর করবে বলে জানাচ্ছে টাইমস অফ ইন্ডিয়ার একটি প্রতিবেদন। এই যন্ত্রটির প্রধান অংশগুলি ইতিমধ্যেই কর্মস্থলে পৌঁছে গিয়েছে। আর বাকি অংশগুলি পৌঁছনোর পরেই সেগুলিকে ট্রাক্টরের মাধ্যমে ভিখরোলি ও সাভালি সাইটে নিয়ে যাওয়া হবে। প্রসঙ্গত, এই বুলেট ট্রেন প্রকল্পের মোট ৫০৮ কিলোমিটার রাস্তার মধ্যে ২৭.৪ কিলোমিটার হল সুরঙ্গ। আর এর মধ্যে ২১ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ এবং ৬.৪ কিলোমিটার থাকবে ভূপৃষ্ঠের উপরে। এই প্রকল্পের সবথেকে আকর্ষণীয় অংশ হল থানে ক্রিকের নিচে মোট ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্রতলের সুরঙ্গ। জানা যাচ্ছে, নিউ অস্ট্রিয়ান টানেলিং মেথড ব্যবহার করে ৪.৮৮ কিলোমিটার সুরঙ্গের কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। আর ভারতে এই প্রথম ১৩.৬৫ মিটার ব্যাসের এত বড় মিক্সড-শিল্ড টিবিএম মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছে।
কেন এই টিবিএম প্রযুক্তি?
আসলে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা দিয়ে সুরঙ্গ তৈরি করার সময় সাধারণ বিস্ফোরক পদ্ধতি বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। আর টিবিএম মেশিনের সবথেকে বড় সুবিধা হল, এটি অত্যন্ত নিরাপদে নিখুঁতভাবে মাটি ও পাথর কাটতে পারে। আর জনবহুল এলাকায় নীচ দিয়ে যাওয়ার সময় কম্পন বা বিপদের কোনও রকম আশঙ্কা থাকে না। এমনকি যন্ত্রটি অ্যাসেম্বর করতে আনুমানিক ৯০ দিন সময় লাগবে, আর আগামী জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে এটি জোরকদমে কাজ শুরু করবে বলে খবর।
আরও পড়ুন: বাতিল দত্তপুকুর, গোবরডাঙ্গা সহ একাধিক লোকাল! শিয়ালদা শাখায় বহু ট্রেনের রুট বদল
এদিকে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত পাওয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, গুজরাট এবং মহারাষ্ট্র মিলিয়ে মোট ৪৩০ কিলোমিটার পিয়ার এবং ১৭৪ কিলোমিটার ট্র্যাক বেডের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আর প্রথম ধাপে সুরাট থেকে বিলিমোরা পর্যন্ত প্রথম পর্যায়ের কাজ আগামী ১৫ আগস্ট ২০১৭ এর মধ্যেই শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে, এবং সম্পূর্ণ করিডরটি ২০২৯ সালের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে চালু হবে। সেক্ষেত্রে মোট ৫০৮ কিলোমিটার রুটে বুলেট ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।