সৌভিক মুখোপাধ্যায়, হাবড়া: রাজ্যের লক্ষ লক্ষ পরিবারের জন্য সুখবর। স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এবার বিরাট পরিবর্তনের পথে হাঁটল পশ্চিমবঙ্গ সরকার (Government of West Bengal)। স্বাস্থ্য প্রকল্পের আওতায় পেনশভোগী এবং পরিবার পেনশনভোগীদের জন্য ক্যাশলেস চিকিৎসার আর্থিক বীমা ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছে রাজ্য। যার ফলে জটিল অসুখে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসার ক্ষেত্রে এবার আগের তুলনায় অনেক বেশি আর্থিক সুরক্ষা মিলবে।
কারা পাবে এই সুবিধা?
নবান্নের তরফ থেকে যেমনটা জানানো হয়েছে, এই বর্ধিত ক্যাশলেস সুবিধা পাবে রাজ্যের সরকারি পেনশনভোগী এবং পরিবার পেনশনভোগীরা। কিন্তু হ্যাঁ, অতিরিক্ত সুবিধাটি মিলবে শুধুমাত্র এমপ্যানেলড বেসরকারি হাসপাতালগুলোতেই। অর্থাৎ যে সমস্ত হাসপাতাল সরকারিভাবে তালিকাভুক্ত, সেখানে এই বাড়তি সীমা কার্যকর থাকবে বলে জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, হাসপাতালে ভর্তি রোগীর চিকিৎসা খরচ মোটামুটি ২ লক্ষ টাকার বেশি হলে হাসপাতালকে ১০ দিনের সম্ভাব্য খরচের একটি বিস্তারিত আনুমানিক হিসাব জমা দিতে হবে। আর মেডিকেল সেল ২৪ ঘন্টার মধ্যেই সিদ্ধান্ত জানাবে। সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত যদি না জানানো হয়, তাহলে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত অনুমোদন স্বয়ংক্রিয়ভাবেই কার্যকর হয়ে যাবে। যার ফলে রোগী এবং পরিবারের আর দুশ্চিন্তা করার কোনও কারণ থাকবে না।
স্বাস্থ্যসাথী নিয়ে বিরাট ঘোষণা
এদিকে রাজ্যের আরও এক গুরুত্বপূর্ণ স্কিম স্বাস্থ্যসাথী নিয়েও চলতি বাজেটে বিরাট ঘোষণা করা হয়েছে বলে খবর। রাজ্যের অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য জানিয়েছেন যে, ইতিমধ্যেই প্রায় ২ কোটি ৪৫ লক্ষ মানুষকে এই প্রকল্পের আওতায় সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। আর এবার গিগ ইকোনমির সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের স্বাস্থ্য সাথীর আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে। এতে ডেলিভারি কর্মী থেকে শুরু করে ফ্রিল্যান্সার সহ বহু অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকরা উপকৃত হবে।
আরও পড়ুন: কর্মীদের স্বস্তি, সুদের হার নিয়ে বড় ঘোষণা EPFO-র
সরকারের দেওয়া একটি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত আনুমানিক ১ কোটি মানুষ এই প্রকল্পের মাধ্যমে হাসপাতালগুলিতে পরিষেবা নিয়েছে। এমনকি মোট ১৩ হাজার ১৫৬ কোটি টাকার ক্যাশলেস চিকিৎসার সুবিধা দেওয়া হয়েছে স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পের আওতায়, যার সম্পূর্ণ ব্যয়ভার বহন করছে রাজ্য সরকার।