সৌভিক মুখোপাধ্যায়, হাবড়া: পড়াশোনার ক্ষেত্রে ছাত্র-ছাত্রীদের আর্থিকভাবে সহায়তা করার জন্য কেন্দ্র বলুন বা রাজ্য, একাধিক স্কলারশিপ চালু করে রেখেছে। ঠিক তেমনই পশ্চিমবঙ্গের হাজার হাজার শিক্ষার্থীদের জন্য জনপ্রিয় একটি স্কলারশিপ হল নবান্ন স্কলারশিপ (Nabanna Scholarship)। পরিবারের আর্থিক চাপে কলেজে ভর্তি বা বই কেনার খরচ মেটানোর জন্য এই স্কলারশিপের জুড়িমেলা ভার। জানা যাচ্ছে, এই স্কলারশিপের আওতায় উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত স্টাইপেন্ড মেলে। এমনকি মাধ্যমিক পাস করলেই এই স্কলারশিপ পাওয়া যায়। কিন্তু কারা পাবে, কীভাবে আবেদন করতে হবে ইত্যাদি তথ্য জানতে হলে প্রতিবেদনটি পড়ুন।

কী এই নবান্ন স্কলারশিপ?

জানিয়ে রাখি, নবান্ন স্কলারশিপ মূলত মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের আওতায় পরিচালিত একটি জনপ্রিয় প্রকল্প। এই স্কলারশিপের উদ্দেশ্য হল মেধাবী পড়ুয়াদের আর্থিকভাবে সহায়তা করা। বিশেষভাবে যাদের পরিবারের আর্থিক কাঠামো অতটা ভালো নয়। এই স্কলারশিপের মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীরা উচ্চ শিক্ষার পথে এগোতে পারে। এমনকি কলেজের ভর্তি থেকে শুরু করে টিউশন ফি বা বই কেনার আর্থিক সুবিধা পাওয়া যায়।

কারা আবেদন করতে পারবে?

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এই স্কলারশিপে আবেদন করার জন্য অবশ্যই কিছু যোগ্যতা পূরণ করতে হয়। প্রথমত, শিক্ষার্থীকে পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। দ্বিতীয়ত, মাধ্যমিক বা উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় ন্যূনতম ৫০% নম্বর থাকতে হবে। তৃতীয়ত, পরিবারের বার্ষিক আয় ১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকার মধ্যে থাকতে হবে। এছাড়া পরবর্তী কোনও ক্লাসে ভর্তি হতে হবে আর ভর্তির প্রমাণপত্র দেখাতে হবে। তবে ডিস্ট্যান্সে পড়াশোনা করলে হবে না। রেগুলার বেসিসে ক্লাস করতে হবে।

কত টাকা স্টাইপেন্ড মেলে?

মাধ্যমিক পরীক্ষা বা উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা যদি ৫০ শতাংশ নম্বর পেয়ে এই স্কলারশিপে আবেদন করে থাকেন, তাহলে এককালীন ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত স্টাইপেন্ড দেওয়া হয়। আর এই অর্থ সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমেই পাঠানো হয়।

আবেদন পদ্ধতি

এখানে অফলাইন এবং অনলাইন দুইভাবেই আবেদন করা যায়। অনলাইনে আবেদন করার জন্য প্রথমে অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে হয়। তারপর নিজের ব্যক্তিগত তথ্য দিয়ে আবেদনপত্র পূরণ করে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট আপলোড করে সাবমিট করতে হয়। আর অফলাইনে আবেদন করার জন্য প্রথমে ওয়েবসাইট থেকে ফর্ম ডাউনলোড করতে হয়। তারপর সেটি নিজের ব্যক্তিগত তথ্য দিয়ে পূরণ করে সেলফ অ্যাটেস্টেড করতে হয়। তারপর প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টগুলি যুক্ত করে নির্দিষ্ট প্রশাসনিক দফতরে বা পোস্ট অফিসের মাধ্যমে পাঠিয়ে দিতে পারেন।
আরও পড়ুন: ভক্তদের চিন্তা দূর করে নতুন গান নিয়ে ফিরলেন অরিজিৎ সিং

কী কী ডকুমেন্ট দরকার?

এই স্কলারশিপে আবেদন করার জন্য যে ডকুমেন্টগুলো দরকার হয় তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল পরিচয়ের প্রমাণপত্র হিসেবে আধার কার্ড, পরিবারের বার্ষিক আয়ের সার্টিফিকেট, মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিকের মার্কশিট, জন্ম সার্টিফিকেট, বর্তমান কোর্সের ভর্তির রশিদ কপি, ব্যাঙ্কের পাসবুকের জেরক্স এবং পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি ও স্বাক্ষর।