সৌভিক মুখোপাধ্যায়, হাবড়া: মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে এমনিতেই ভারতে জ্বালানির টান পড়ছে। বিশেষ করে রান্নার গ্যাস বা এলপিজি সরবরাহ (LPG Crisis) নিয়েছে যে উদ্বেগ বাড়ছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আর সেই পরিস্থিতিতে গ্যাসের কালোবাজারি আর অপ্রয়োজনীয় মজুদ রুখার জন্য এবার গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা জারি করল কেন্দ্রীয় সরকার। জানা যাচ্ছে, কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক একটি নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে। আর সেখানে বলা হয়েছে, কিছু কিছু পরিবার এবার থেকে আর এলপিজি সিলিন্ডার রাখতে পারবে না এবং নতুন করে কোনও এলপিজি কানেকশন পাবে না। তালিকায় কারা পড়ছে?
কী বলছে নতুন নিয়ম?
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, যে সমস্ত গ্রাহকের বাড়িতে ইতিমধ্যেই পিএনজি সংযোগ রয়েছে তাদেরকে আর গৃহস্থ এলপিজি কানেকশন দেওয়া হবে না, এবং যদি কানেকশন থেকে থাকে, তাহলে তা সারেন্ডার করতে হবে। অর্থাৎ, ভবিষ্যতে তারা সরকারি তেল সংস্থাগুলির কাছ থেকে এলপিজি সিলিন্ডার রিফিল করতে পারবে না। সরকারের দাবি, গ্যাসের সরবরাহকে আরও সুশৃঙ্খল করার জন্য এবং প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে যাতে গ্যাস পৌঁছে দেওয়া যায় তার ব্যবস্থা করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এমনকি বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক পরিবারই পিএনজি থাকার পরেও বিকল্প এলপিজি সিলিন্ডার রেখে দেয়। যার ফলে সরবরাহ কমে গেলে বা সংকটের সময় অন্য গ্রাহকের কাছে সেই সিলিন্ডার পৌঁছয় না। সেই পরিস্থিতি এড়ানোর জন্যই পিএনজি গ্রাহকদের এলপিজি কানেকশন বন্ধ করার নির্দেশিকা জারি করল কেন্দ্র সরকার।
কেন তৈরি হচ্ছে এলপিজির সংকট?
বলে রাখি, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংকটের জেরে পরিস্থিতি দিনের পর দিন জটিল হচ্ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী সাময়িকভাবে বন্ধ থাকার কারণে জ্বালানি সরবরাহে টান পড়ছে। আর ভারত তার মোট চাহিদার একটি বৃহৎ অংশ এলপিজি বিদেশ থেকে আমদানি করে। বিশেষ করে কাতার থেকে ভারতের সিংহভাগ এলপিজি আসে। কিন্তু হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকার কারণে সেই সরবরাহ বন্ধ হয়েছে। আর সংকটের কারণে দেশের বেশ কিছু শহরে গ্যাস সিলিন্ডারের চাহিদাও বেড়ে গিয়েছে। দিল্লি এবং মুম্বাইয়ের অনেক জায়গায় সিলিন্ডার নেওয়ার জন্য গ্রাহকদের দীর্ঘ সময় ধরে লাইনে দাঁড়াতেও দেখা যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: কলকাতা সহ একাধিক জেলায় বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টিপাত, উত্তরবঙ্গে কী পরিস্থিতি? আজকের আবহাওয়া
কিন্তু হ্যাঁ, পরিস্থিতি খুব বেশিদিন যে অস্বাভাবিক থাকবে এমনটা মনে করছে না ওয়াকিবহাল মহল। সূত্রের খবর, ভারতের জন্য হরমুজ প্রণালী দিয়ে গ্যাস চলাচলের অনুমতি ইতিমধ্যেই দিয়ে দিয়েছে ইরান। আর গতকাল শিবালিক নামের একটি এলপিজি বহনকারী জাহাজ হরমুজ প্রণালী নিরাপদে পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছে। আর যদি সবকিছু ঠিকঠাক থাকে, তাহলে হয়তো আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই আরও দুটি গ্যাস ভর্তি জাহাজ ভারতে পৌঁছতে পারে এবং এলপিজির হাহাকার দূর হতে পারে।