সৌভিক মুখোপাধ্যায়, হাবড়া: রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (Dearness Allowance) নিয়ে আইনি লড়াইয়ে এবার নয়া মোড়। হ্যাঁ, সুপ্রিম কোর্টের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত মামলার মাঝেই এবার কলকাতা হাইকোর্টের দায়ের করা হল আরও একটি মামলা। সরকারি কর্মচারীদের সংগঠন ইউনিটি ফোরামের পক্ষ থেকে দায়ের করা এই পিটিশনটি নিয়ে আগামী ৬ এপ্রিল শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে খবর।
কেন করা হল নতুন মামলা?
আসলে সুপ্রিম কোর্টে মামলা চলাকালীন হাইকোর্টে কেন ফের দারস্ত হলেন কর্মীরা এই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। মামলাকারীদের আইনজীবী জানিয়েছেন যে, এই মামলার প্রেক্ষাপট কিছুটা আলাদা ছিল। এখানে মূলত দুটি বড় অসঙ্গতিকেই হাতিয়ার করা হচ্ছে। প্রথমত ৪৮ মাসের হিসাব নিকাশ। ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত দীর্ঘ ৪৮ মাসের বকেয়া ডিএ-র কোনও সদুত্তর দেয়নি রাজ্য সরকার। আর দ্বিতীয়ত রয়েছে রোপা ২০১৯ এর ত্রুটি। অভিযোগ উঠছে, ২০১৯ সালের নতুন বেতন কমিশন বা রোপা কার্যকর হওয়ার সময় সেখানে মহার্ঘ ভাতার কোনও তথ্য উল্লেখ করা ছিল না। আর মামলাকারীদের দাবি, বর্তমান ডিএ-কে অবশ্যই নতুন বেতন কমিশনের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এদিকে ইউনিটি ফোরামের পক্ষ থেকে জমা দেওয়া পিটিশনে কয়েকটি পয়েন্টে তুলে ধরা হয়েছে। প্রথমত, ডিএ কোনও দয়া বা অনুদান নয়। এটি কর্মচারীদের আইনি অধিকার। পূর্ববর্তী একাধিক রায়ের উদাহরণ টেনে এনে এই বিষয়টিকে আদালতের সামনে আনা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, সর্বভারতীয় ভোক্তা মূল্য সূচক অনুযায়ী ডিএ প্রদানের দাবি জানানো হয়েছে। আর মামলাকারীদের যুক্তি, যেহেতু এই সূচক সারা দেশেই অভিন্ন। তাই রাজ্য ভেদে ডিএ-র পরিমাণ বৈষম্য থাকা উচিত নয়। এমনকি এই মামলায় রাজ্যের সমস্ত সরকারি কর্মচারী এবং স্কুল শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যার ফলে ইতিবাচক রায় আসলে কয়েক লক্ষ মানুষ সরকার সরাসরি আর্থিক সুবিধা পাবেন।
আরও পড়ুন: সংকটের দিন শেষ! ভারতে আসছে হাজার হাজার টন LPG
অন্যদিকে সম্প্রতি রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ডিএ সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছিল। কিন্তু তা নিয়েও কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। অভিযোগ ওঠে যে, বিজ্ঞপ্তির মারপ্যাঁচে এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে, যে ডিএ ঘোষণা করা হলেও তা হাতে পাওয়া নিয়ে জটিলতা থেকে যাচ্ছে। সেই কারণেই নতুন করে আইনি লড়াই। এখন আগামী ৬ এপ্রিল যদি এই মামলাটি আদালত গ্রহণ করে এবং শুনানি হয়, তাহলে তা বিরাটমাইল ফলক হতে পারে সরকারি কর্মচারীদের কাছে এমনটাই মত ওয়াকিবহাল মহলের।