সৌভিক মুখোপাধ্যায়, হাবড়া: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণা অনুযায়ী ইতিমধ্যেই যুবসাথী প্রকল্পের (Banglar Yuva Sathi) ভাতা ঢুকতে শুরু করেছে রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের অ্যাকাউন্টে। হ্যাঁ, ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সী বেকারদের অ্যাকাউন্টে মার্চ মাসের ৭ তারিখ থেকে ১৫০০ টাকা করে ভাতা ঢুকছে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত অনেকেই অ্যাকাউন্টে টাকা পায়নি। কিন্তু তাঁদের টাকা কবে দেওয়া হবে? বিস্তারিত জানুন এই প্রতিবেদনে।

কাদের টাকা আগে ঢুকছে?

প্রসঙ্গত জানিয়ে রাখি, যে সমস্ত যুবক-যুবতীরা যুবসাথী প্রকল্পে অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করেছিল, তাদের ক্ষেত্রে আগে টাকা দেওয়া হচ্ছে। কারণ, তাদের অনলাইনে আবেদন করাতে সমস্ত তথ্য পোর্টালেই আপলোড ছিল। শুধুমাত্র যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু যারা অফলাইনে যুবসাথী প্রকল্পের আবেদন করেছে, তাদের ক্ষেত্রে টাকা দিতে বিলম্ব হচ্ছে। কারণ, ম্যানুয়ালী তাদের সমস্ত তথ্য ডেটা এন্ট্রি অপারেটর মাধ্যমে অনলাইনে আপলোড করতে হচ্ছে। তারপর সংশ্লিষ্ট পোর্টালে সাবমিট করেই টাকা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু হ্যাঁ, অফলাইনে যারা আবেদন করেছে, তাদেরও মধ্যেও কিছু কিছু আবেদনকারীদের টাকা ঢোকা শুরু হয়েছে। তাই চিন্তার কোনও কারণ নেই। খুব তাড়াতাড়ি প্রত্যেকের অ্যাকাউন্টে এই প্রকল্পের টাকা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে রাজ্যের অর্থ দফতরের তরফ থেকে।

বাতিল হয়ে যাচ্ছে আবেদনপত্র

তবে হ্যাঁ, অনেক আবেদনকারীর তথ্য ভেরিফিকেশনের সময় আবেদনপত্র বাতিল হয়ে যাচ্ছে। তার জন্য নির্দিষ্ট কিছু কারণ রয়েছে। যেমন আবেদনকারীর বয়স যদি ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে না হয়, তাহলে তার আবেদন বাতিল হয়ে যাবে। পাশাপাশি যদি কেউ লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বা অন্য কোনও সমাজ কল্যাণমূলক প্রকল্প থেকে ভাতা পেয়ে থাকে, তাহলে সে এই প্রকল্পের ভাতা পাবে না। এমনকি মাধ্যমিক পাস না করলেও মিলবে না ভাতা।

আরও পড়ুন: বকেয়া ডিএ দেওয়ার ঘোষণা হলেও নেই কোনও বিজ্ঞপ্তি! আদৌ মিটবে তো? উঠছে প্রশ্ন

এদিকে অনেক আবেদনকারীর ব্যাঙ্কের সঙ্গে আধার লিঙ্ক করা নেই বা অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে ভাতা আটকে যাচ্ছে। তাছাড়া কেওয়াইসি যদি সময় মতো না করা হয়, তাহলে ব্যাঙ্কে টাকা ঢুকতে দেরি হয়। তাই যাদের মেসেজ আসা সত্ত্বেও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকছে না, তারা অবিলম্বে ব্যাঙ্কে গিয়ে একবার যোগাযোগ করুন। যদি কেওয়াইসি করা না থাকে বা অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে পুনরায় তা চালু করুন এবং কেওয়াইসি সম্পন্ন করুন। কারণ, এই প্রকল্পের টাকা সরাসরি ডিবিটির মাধ্যমে দেওয়া হয়। সেক্ষেত্রে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে কোনও সমস্যা হলে টাকা পেতে বিলম্ব হতে পারে।