সৌভিক মুখোপাধ্যায়, হাবড়া: পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতার মধ্যে ভারতে এলপিজি সরবরাহে কিছুটা স্বস্তি (LPG Crisis)। কিন্তু পরিস্থিতি এখনো পর্যন্ত পুরোপুরি ঠিক নয় বলেই জানিয়ে দিল কেন্দ্র সরকার (Government of India)। হ্যাঁ, একাধিক জাহাজ দেশে পৌঁছতে শুরু করলেও সামগ্রিক চাহিদার তুলনায় সরবরাহের হিসেবে এবার সতর্কই থাকছে সরকার। তাহলে কি এত তাড়াতাড়ি এলপিজি সংকট কাটবে না দেশ থেকে?

প্রথম জাহাজ পৌঁছল দেশে

পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের মধ্যে দিয়েও ইরানের হরমুজ প্রণালী পার হয়ে ভারতের এলপিজিবাহী জাহাজগুলির মধ্যে ‘শিবালিক’ সোমবার বিকালে গুজরাটের মুন্দ্রা বন্ধরে পৌঁছেছে। জানা যাচ্ছে, এই জাহাজে ৪৬ হাজার টন এলপিজি ছিল। আর সেক্ষেত্রে ২০ হাজার টন নামানো হবে মুন্দ্রায়। আর বাকি ২৬ হাজার টন কর্ণাটকের ম্যাঙ্গালোরে নামানো হবে। এমনকি সরকারি সূত্রে আরও জানানো হয়েছে যে, নন্দাদেবী নামের আরও একটি জাহাজ মঙ্গলবার গুজরাটের কাণ্ডলা বন্দরে পৌঁছবে। আর এতেও ৪৬ হাজার টন এলপিজি মজুদ রয়েছে। এর পাশাপাশি ‘জগ লড়কি’ নামের আরও একটি জাহাজ সংযুক্ত আরব আমিরশাহী থেকে ৮১ হাজার টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে নবি মুম্বাইতে পৌঁছবে। আর সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, এই সমস্ত জাহাজ থেকে দ্রুত জ্বালানি খালাস করাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এমনকি শুধুমাত্র এই জাহাজগুলি নয়, বরং হরমুজ প্রণালী দিয়ে আরও ছয়টি তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজ নিরাপদে আনার জন্য ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা চলছে।
আরও পড়ুন: নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে প্রার্থী হতে পারেন অভিষেক ব্যানার্জি! খবর সূত্রের

কাটছে না সংশয়

কিন্তু যদিও জাহাজ ভারতে আসছে, তাও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ এখনও পর্যন্ত পুরোপুরি দূর হয়নি। কারণ, ৪৬ হাজার টন এলপিজি মানে আনুমানিক ৩২.৪ লক্ষ সিলিন্ডার। আর ভারতে প্রতিদিন প্রয়োজন পরে ৫০ লক্ষ সিলিন্ডার। অর্থাৎ, একদিনের চাহিদা মেটাতেও একটির বেশি জাহাজ প্রয়োজন। আর পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গৃহস্থের জন্য এলপিজি সরবরাহে কোনও রকম ঘাটতি নেই, এবং তেলের জোগান সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। পাশাপাশি যুগ্ম সচিব সুজাতা শর্মা জানিয়েছেন, প্রথম দিকে বুকিং-এ কিছুটা সমস্যা হচ্ছিল। পরিস্থিতি এখন অনেকটাই স্বাভাবিক। বর্তমানে ৯০% বুকিং ফোন বা অনলাইনেই হচ্ছে। আর ৭২% ডেলিভারি কোডের মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে।