সৌভিক মুখোপাধ্যায়, হাবড়া: শুক্রবার আচমকা ভূমিকম্পে (Earthquake) কেঁপে উঠল গোটা কলকাতা সহ বাংলাদেশের একাংশ। বেলা ১টা বেজে ২৩ মিনিট নাগাদ শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ভূমিকম্প অনুভূত হল। রিখটার স্কেলে এই কম্পনের মাত্রা ছিল ৫। শহরের একাধিক বহুতল আবাসন থেকে শুরু করে অফিসপাড়া, বাণিজ্যিক এলাকা কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে কার্যত কেঁপে ওঠে। এমনকি বাসিন্দারা আতঙ্কে ঘরবাড়ি হিসেবে বেরিয়ে আসে। বিশেষ করে উঁচু ভবনগুলিতে কম্পন বেশি মাত্রায় অনুভূত হয়েছে বলেই জানাচ্ছে নেট নাগরিক।
ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল কলকাতা
উল্লেখ্য, দুপুর ১টা ২৩ মিনিট নাগাদ কলকাতায় এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ফ্ল্যাটগুলি থেকে আতঙ্কে নিচে নেমে পড়ে শত শত লোক। এমনকি উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে শুরু করে হাওড়া, হুগলিসহ বেশ কিছু জেলায় কম্পন সর্বত্রভাবেই অনুভূত হয়। তবে রিপোর্ট অনুযায়ী, এদিন এই ভূমিকম্পে গণেশচন্দ্র অ্যাভিনিউ এর একটি পুরনো বাড়ি হেলে পড়েছে। তবে সেখান থেকে কোনও হতাহতের খবর মেলেনি। সবাই সুরক্ষিত রয়েছে। এছাড়াও কলকাতার পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গের দুই মেদিনীপুরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। একইভাবে ঝাড়গ্রাম জেলাতেও কম্পনের অনুভূতি টের পেয়েছে মানুষজন। রিপোর্ট অনুযায়ী, এই ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল বাংলাদেশের খুলনার পাইকগাছা, পশ্চিমবঙ্গের টাকি থেকে যার দূরত্ব মোটামুটি ২৬ কিলোমিটার। এমনকি পাইকগাছা কলকাতা থেকে মাত্র ১২৭ কিলোমিটার দূরে আর বসিরহাট থেকে দূরত্ব ৬২ কিলোমিটার। বাংলাদেশের খুলনা জেলার দক্ষিণ অঞ্চলে অবস্থিত পাইকগাছা। এটি সুন্দরবন নিকটবর্তী এবং শিবসা নদীসহ বিভিন্ন নদনদী অববাহিকায় অবস্থিত একটি উপকূলীয় এলাকা। এখান থেকেই ভূমিকম্পের সূত্রপাত।
আরও পড়ুন: হাওড়া ডিভিশনে ৬৫টি লোকাল ট্রেন বাতিল করল পূর্ব রেল! দেখুন তালিকা
এদিকে জানিয়ে রাখি, গত ৩ ফেব্রুয়ারি রাত ৯:০৫ মিনিটে কলকাতার বিস্তীর্ণ এলাকা ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে। ১৫ সেকেন্ড ধরে অনুভূত হয়েছিল সেই কম্পন। ওই ভূকম্পের উৎসস্থল ছিল মায়ানমার। তার আগে গত বছর নভেম্বর মাসের সকালবেলাও কেঁপে উঠেছিল শহরতলী। ১০:০৮ মিনিট নাগাদ সেই কম্পন অনুভূত হয়। সেক্ষেত্রে কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা কেঁপে ওঠে। প্রায় ৩০ সেকেন্ড ধরে কম্পন অনুভূত হয়। তবে তাতেও সেরকম কোনও ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা ছিল না। আর কম্পনের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৫.৭।