সৌভিক মুখোপাধ্যায়, হাবড়া: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সবথেকে জনপ্রিয় সামাজিক প্রকল্প লক্ষীর ভাণ্ডার (Lakhsmir Bhandar) নিয়ে এবার বিরাট অভিযোগ অভিযোগ সামনে এলো। হাওড়ার একাধিক মহিলা দাবি করছে, গত কয়েক বছর ধরেই তাঁদের নামে বরাদ্দ ভাতা অন্য কারোর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা পড়ছে। আর এই ঘটনার পিছনে বড় কোনও জালিয়াতি চক্র সক্রিয় আছে বলেই ধারণা করছে অনেকে। সম্প্রতি মধ্য হাওড়ার বাসিন্দা কবিতা মন্ডলের অভিযোগ সামনে আসার পর এই বিষয়টি আলোচনায় আসে। আর একই ধরনের অভিযোগ তুলেছেন হাওড়ার আরও বেশ কিছু বাসিন্দা।

পাঁচ বছর ধরে অন্য অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে টাকা

মৌমিতা ঘোষ নামের এক বাসিন্দার দাবি, প্রায় পাঁচ বছর ধরেই তাঁর লক্ষীর ভাণ্ডার প্রকল্পের টাকা অন্য একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা পড়ছে। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি জেলা সমাজকল্যাণ দফতরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, একাধিকবার জানানো সত্বেও কোনও রকম সদুত্তর মেলেনি এবং প্রশাসন কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। বরং, দফতরে গেলে তাঁকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করছেন তিনি। মৌমিতা জানান যে, প্রথমে তিনি নিজের ব্যাঙ্কে গিয়ে বিষয়টি জানতে চেয়েছিলেন। সেখান থেকেই তিনি জানতে পারেন যে এই ধরনের অভিযোগ নাকি আরও এসেছে। এরপর তাঁকে জেলা সমাজকল্যাণ দফতরে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তারপর তিনি হাওড়া আদালত চত্বরে অবস্থিত জেলায় সমাজকল্যাণ দফতরে গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। এমনকি সেখানে লিখিত অভিযোগ জানান। কিন্তু সেখানেও কোনও সমস্যা সমাধান হয়নি বলে দাবি তাঁর।
আরও পড়ুন: মাধ্যমিক পাসে আবেদন, প্রতি মাসে ৭০০০ টাকা আয়! মহিলাদের জন্য দারুণ স্কিম
এমনকি হাওড়ার বাসিন্দা কবিতা মন্ডলও একই ধরনের অভিযোগ তুলেছিলেন। তিনি বলেছেন যে, তিনি প্রকল্পে আবেদন করার পর মোবাইলে একটি মেসেজ পেয়েছিলেন যে তাঁর আবেদন গৃহীত হয়েছে। কিন্তু তারপরেও দীর্ঘদিন ধরে তাঁর অ্যাকাউন্টে কোনও রকম টাকা জমা পড়েনি। পরে জানা যায় যে, তাঁর নামে বরাদ্দ ভাতা অন্য অ্যাকাউন্টে জমা পড়ছে। এদিকে এরকম একাধিক অভিযোগ সামনে আসার পর প্রশাসনের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে যে, এর পেছনে কোনও জালিয়াতিচক্র সক্রিয় থাকতে পারে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, প্রথমে যে সমস্ত অ্যাকাউন্টে ভুলভাবে টাকা জমা পড়েছে, সেগুলোকে চিহ্নিত করে ফ্রিজ করে দেওয়া হবে। তারপর প্রকৃত আবেদনকারীরা যাতে তাদের প্রাপ্য ভাতা পায় তার ব্যবস্থা করা হবে।