সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: গৃহস্থালিতে দিনের পর দিন বাড়ছে ভোজ্য তেলের (Cooking Oil) ব্যবহার। তবে এর মাঝে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে বিরাট ঘোষণা করল কেন্দ্র সরকার। হ্যাঁ, এবার অপরিশোধিত ভোজ্য দলের উপর আমদানি শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যার ফলে আগামী দিন তেলের দাম অনেকটাই কমতে পারে, এমন সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। আর এই নতুন নিয়ম কার্যকর হবে আগামী ৩১ মে থেকে। ইতিমধ্যেই এ বিষয়ে একটি সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।
কতটা কমানো হচ্ছে শুল্ক?
প্রসঙ্গত, এখনও পর্যন্ত অপরিশোধিত পাম তেল, সয়াবিন তেল এবং সূর্যমুখী তেলের উপর ২০ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপিত ছিল। তবে নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এবার সেই শুল্ক কমিয়ে ১০% করা হচ্ছে। এর ফলে এই তিন ধরনের তেলের উপর মোট করের বোঝা ২৭.৫ শতাংশ থেকে কমে ১৬.৫ শতাংশে দাঁড়াবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর সরাসরি প্রভাব পড়বে খুচরো বাজারের উপরেই। বলাই বাহুল্য, ভারত তার মোট ভোজ্য তেলের চাহিদার ৭০ শতাংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ করে থাকে। কারণ, দেশীয় উৎপাদন অতটা চাহিদা পূরণ করতে পারে না। যার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওঠানামা বা শুল্ক বৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি দেশের বাজারেই পড়ে। আর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে আমদানি শুল্ক বাড়ানো হলে বাজারে তেলের দাম অনেকটাই বেড়ে গিয়েছিল। শিল্প মহলের মতে, এবার শুল্ক হ্রাসের সিদ্ধান্ত মূল্যবৃদ্ধির চাপ কমাতে অনেকটাই সাহায্য করবে।
আরও পড়ুন: নিম্নচাপের জেরে দক্ষিণবঙ্গে দুর্যোগ! কতদিন চলবে ঝড়-বৃষ্টি? আবহাওয়ার আপডেট
কোন কোন দেশ থেকে আমদানি হয় ভোজ্য তেল?
জানিয়ে দিই, ভারত প্রধানত ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া এবং থাইল্যান্ড থেকেই পাম তেল আমদানি করে থাকে। আর সূর্যমুখী তেল আসে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, রাশিয়া এবং ইউক্রেনের মতো দেশগুলি থেকে। শুল্ক কমানোর ফলে এই দেশগুলি থেকে আমদানিকৃত ভোজ্য তেলের দাম অনেকটাই কম হবে। যার প্রভাব পড়বে দেশীয় বাজারেই। এমনকি ইতিমধ্যেই সরকার তেল প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রগুলিতে খতিয়ে দেখছে যে, খুচরো বিক্রয় মূল্য ঠিক কতটা কমছে আর পরিবেশ স্তরের দাম কীভাবে বদলাচ্ছে। পাশাপাশি প্যাকেটজাত সূর্যমুখী এবং সয়াবিন তেলের দাম বাস্তবে কতটা হ্রাস পাচ্ছে তাও আলোচনা করছে কেন্দ্র সরকার। সরকারের মূল লক্ষ্য একটাই, বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে নিয়ে আসা এবং নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যগুলি সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনা। তাই এখন শুল্ক কমার দিকেই তাকিয়ে আমজনতা।