বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: নিজেদের কষ্টার্জিত অর্থ সঞ্চয়ের ঠিকানা ব্যাঙ্ক। তবে হঠাৎ করে যদি দেখেন আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ (Bank Account Frozen) হয়ে গিয়েছে সে ক্ষেত্রে কী করবেন? সাধারণত, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হয়ে থাকে বেশ কিছু কারণে। এরমধ্যে অন্যতম কারণ KYC না করা, সন্দেহজনক লেনদেন এমনকি আইনি নোটিসের কারণেও ব্লক হয়ে যায় অ্যাকাউন্ট। তবে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হয়ে গেলেও চিন্তার কোনও কারণ নেই। কিছু সহজ পদ্ধতি অবলম্বন করে পুনরায় অ্যাকসেস করা যাবে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট।
অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হয়ে গেলে কী করণীয়?
প্রথমেই বলে রাখি, কারও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট যদি হঠাৎ করেই ফ্রিজ হয়ে যায় সেক্ষেত্রে প্রথমেই অনলাইন বা মোবাইল ব্যাঙ্কিং পরীক্ষা করে দেখতে হবে আদতেই অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হয়েছে কিনা। যদি হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে ডেভিড ব্লকড বা অ্যাকাউন্ট ফ্রিজড এর মতো কিছু লেখা দেখাবে। যদি এই পদ্ধতিতে কাজ না হয় সে ক্ষেত্রে ব্যাঙ্কের গ্রাহক সেবা প্রতিনিধিদের সাথে কথা বলে অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে কিনা হলে কেন করা হয়েছে সেটা জেনে নিতে পারেন। এও জেনে নিতে হবে অ্যাকাউন্ট আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে ফ্রিজ করা হয়েছে কিনা। ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলার পর যদি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজের কারণ KYC আপডেট হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে ব্যাঙ্কের নিকটবর্তী শাখায় গিয়ে জেনে নিন ঠিক কোন নথির জন্য KYC আপডেটের ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় নথিপত্র সহ ফর্ম পূরণ করে জমা দিয়ে দিলেই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আনফ্রিজ হয়ে যাবে আপনার অ্যাকাউন্ট। এক্ষেত্রে 2 থেকে 5 কার্যদিবস লাগতে পারে। তবে অ্যাকাউন্ট যদি সন্দেহজনক বা অপ্রাসঙ্গিক লেনদেনের কারণে ফ্রিজ হয়ে থাকে তবে আর্থিক লেনদেন কী কারণে করা হয়েছে এবং অ্যাকাউন্টে আগত অর্থের যথাযথ উৎস দেখাতে হবে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে। সাধারণত ফ্রিল্যান্সার, ব্যবসায়ীরা এই ধরনের সমস্যায় পড়ে থাকেন।
অবশ্যই পড়ুন:যুবসাথী নিয়ে আরেকটি বড় ঘোষণা করার পথে নবান্ন!
এছাড়া যদি আদালতের আইনি নোটিস বা কর সংক্রান্ত কারণে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ফ্রিজ করা হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে আগে জানতে হবে অ্যাকাউন্টটি সম্পূর্ণরূপে ব্লক করা হয়েছে কিনা। বিশেষজ্ঞদের মতে, আইনি নোটিস জারি করে অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার বিষয়টি ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের হাতে থাকে না। কাজেই এই ধরনের সমস্যায় পড়লে সংশ্লিষ্ট বিভাগের সাথে আলোচনায় বসে সমাধান সূত্র বের করতে হবে। যদিও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হয়ে থাকে মূলত KYC না করা এবং অনিয়ন্ত্রিত বা সন্দেহজনক লেনদেনের কারণে। সেক্ষেত্রে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে তাদের দেওয়া শর্ত পূরণ করে নিজের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টটি বাঁচাতে পারেন গ্রাহকরা।