সৌভিক মুখোপাধ্যায়, হাবড়া: পশ্চিমবঙ্গের কৃষকদের জন্য স্বস্তির খবর। রাজ্য সরকারের (Government of West Bengal) উদ্যোগে ফসলের ক্ষতিপূরণের টাকা ধীরে ধীরে কৃষকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা পড়তে শুরু হচ্ছে। ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলার বহু কৃষক মোবাইলে টাকা ঢোকার এসএমএস পেয়েছে। আর এই অর্থ দেওয়া হচ্ছে রাজ্য সরকারের কৃষি সুরক্ষা প্রকল্প বাংলা শস্য বিমা (Banglar Shasya Bima) প্রকল্পের আওতায়। জানিয়ে রাখি, বর্তমানে যে অর্থ কৃষকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে তা মূলত ফসল নষ্টের ক্ষতিপূরণ। বিশেষ করে বন্যা, খরা বা অতিবৃষ্টির কারণে যে সমস্ত চাষির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের জন্য এই অর্থ। ২০২৫ সালের রবি এবং খারিফ মরসুমে যারা এই প্রকল্পের বীমা করেছিলেন, তারাই শুধুমাত্র ক্ষতিপূরণ পাচ্ছে। আর এবারের বিমা সংস্থা হিসেবে কাজ করছে এসবিআই জেনারেল ইন্স্যুরেন্স। তাই অনেক কৃষকের মোবাইল যে এসএমএস আসছে সেখানে এই সংস্থার নাম উল্লেখ থাকছে।

ব্যক্তিগত ক্ষতি হলেও অনেক সময় মেলে না টাকা

এদিকে অনেক কৃষক অভিযোগ করছে যে, আবেদন করার পরেও তারা ক্ষতিপূরণ পায়নি। এর পেছনে রয়েছে প্রকল্পের নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম। কারণ, এই প্রকল্পের ক্ষতিপূরণ ব্যক্তিগত ক্ষতির ভিত্তিতে নয়, বরং এলাকাভিত্তিক প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্যই। অর্থাৎ, কোনও নির্দিষ্ট মৌজা বা পঞ্চায়েত এলাকায় যদি অন্তত ৫০ শতাংশ বা তার বেশি কৃষকের ফসল নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে সেই এলাকাকে ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে ঘোষণা করা হয়, এবং ওই এলাকার বিমাকৃত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। কিন্তু যদি কয়েকজনের ব্যক্তিগত ক্ষতি হয়ে থাকে এবং বাকি কৃষকদের ফসল ঠিক থাকে, তাহলে এই প্রকল্পের আওতায় ক্ষতিপূরণ পাওয়া যায় না।
আরও পড়ুন: আর কোনও অভিযোগ থাকবে না! বন্দে ভারত নিয়ে চরম সুখবর দিল রেল

আপনার নাম রয়েছে কিনা কীভাবে দেখবেন?

বর্তমানে অনলাইনে এই প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্য দেখাচ্ছে না। আগের মতো সরাসরি কত টাকা পাবেন তাও অনলাইনে দেখা যাবে না। কিন্তু আপনি স্ট্যাটাস জানতে পারবেন। এর জন্য নিকটবর্তী ব্লকের কৃষি দফতর বা এডিও অফিসে যোগাযোগ করতে হবে। বিমা কোম্পানির পক্ষ থেকে একটি যাচাইকৃত তালিকা কৃষ দফতরে পাঠানো হয়ে থাকে। আর সেই তালিকায় কারা টাকা পাবেন এবং কত টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে তা বিস্তারিত উল্লেখ থাকে। কৃষি দফতরের আধিকারিকরা আপনার নাম সেই তালিকায় আছে কিনা তা দেখেই জানিয়ে দিতে পারবে।