সৌভিক মুখোপাধ্যায়, হাবড়া: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি অস্থিরতা নিয়ে দিনের পর দিন অনিশ্চয়তা বাড়ছে। আর সেই পরিস্থিতিতে জ্বালানি মজুদ করার জন্য ভারতের কাছ থেকে আরও তেল আমদানি করতে চাইছে বাংলাদেশ (Bangladesh)। হ্যাঁ, এ বিষয়ে ঢাকা থেকে দিল্লিকে ইতিমধ্যেই চিঠি পাঠানো হয়েছে। কিন্তু ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
চুক্তির বাইরে তেল আমদানির অনুরোধ বাংলাদেশের
বলে দিই, বর্তমানে অসমের নুমানিগড় রিফাইনারি লিমিটেড থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আমদানি করে থাকে বাংলাদেশ। ২০১৭ সালে হওয়া এই চুক্তি অনুযায়ী, ধাপে ধাপে মোট ১ লক্ষ ২০ হাজার টন ডিজেল বাংলাদেশে পাঠানোর কথা। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির মধ্যে ভারত ইতিমধ্যেই ৫০০০ টন ডিজেল পাঠিয়েছে ওপার বাংলায়। কিন্তু এই সরবরাহ আগের চুক্তির আওতায় পড়ছে। আর এবার সেই চুক্তির বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত জ্বালানি চেয়ে দিল্লির দারস্ত হয়েছে ঢাকা। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহ নিয়ে দিনের পর দিন উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক তেল পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালী ঘিরে দ্বন্দ্ব বাড়ার ফলে অনেক দেশ এখন বিকল্প সরবরাহের পথে হাঁটছে। যদিও হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতের জাহাজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করেছে ইরান। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতে জ্বালানি সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থেকে আগাম পদক্ষেপ নিতে চাইছে বাংলাদেশ সরকার।
আরও পড়ুন: বন্ধ হয়ে যাবে হাজার হাজার লক্ষীর ভান্ডার অ্যাকাউন্ট!
এ বিষয়ে ওপার বাংলার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন, জরুরী পরিস্থিতিতে ভারতের কাছ থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল সরবরাহ বাড়ানোর অনুরোধ করা হয়েছে। তবে কতটা তেল বাড়তি দেওয়া হবে, সে বিষয়ে কোনও রকম সিদ্ধান্ত নেয়নি এখনো ভারত সরকার। এমনকি এ বিষয়ে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে বলে খবর। পাশাপাশি জ্বালানি ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বাংলাদেশ। দেশের বিদেশ মন্ত্রী খলিলুর রহমান ফোনে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ইসাক দারের সঙ্গে কথা বলেছেন। কিন্তু সন্ত্রাসের দেশের পক্ষ থেকেও এখনও কোনও সদুত্তর আসেনি।