সৌভিক মুখোপাধ্যায়, হাবড়া: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও জ্বালানি সরবরাহে বিরাট সাফল্য পেল ভারত (India Fuel Crisis)। হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে আবারো ৮০,৮৮৬ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে গুজরাটের মুদ্রা বন্দরে পৌঁছল ভারতীয় তেলবাহী জাহাজ জগ লাডকী (Jag Laadki)। কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক বুধবার নিজেই এই তথ্য জানিয়েছে। সরকারি সূত্রে খবর, এই জাহাজে ছিল বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল, যা ভারতে জ্বালানি চাহিদা মেটাতে কাজে আসবে। আর এটি আনা হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর তেল রফতানি কেন্দ্র ফুজাইরাহ বন্দর থেকে। প্রসঙ্গত, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি এখন তুঙ্গে। সম্প্রতি ইরানের তরফে ফুজাইরাহ বন্দরে ড্রোন আর ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর সামনে এসেছিল। আর সেই পরিস্থিতিতে ঝুঁকি নিয়ে জগ লাডকী নিরাপদে ভারতে পৌঁছেছে, যা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য বিরাট স্বস্তির খবর নিয়ে এসেছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
এর আগেও এসেছে এলপিজিবাহী জাহাজ
উল্লেখ্য, শুধুমাত্র তেল নয়, বরং এর আগেও একই পথ পেরিয়ে ভারতে এসেছে একাধিক এলপিজি বোঝাই জাহাজ। কারণ, প্রায় ৪৬,৫০০ মেট্রিক টন এলপিজি নিয়ে ভাদিনার বন্দরে পৌঁছেছিল নন্দদেবী এবং মুন্দ্রা বন্দরের সম্প্রতি এলপিজি নিয়ে নোংড় করেছিল শিবালিক। আর এই ধারাবাহিক সরবরাহ থেকেই প্রমাণ মিলছে যে, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ভারত তার জ্বালানি আমদানি স্বাভাবিক রাখার জন্য বদ্ধপরিকর।
আরও পড়ুন: ইউটিউব শর্টস নাকি ইনস্টাগ্রাম রিলস, কোথায় বেশি আয়? জানুন
পরিসংখ্যান বলছে, প্রায় ৮৮ শতাংশ অপরিশোধিত তেল আমদানি করে থাকে ভারত। পাশাপাশি ৫০ শতাংশ প্রাকৃতিক গ্যাস আর ৬০ শতাংশ এলপিজি ভারতে বিদেশ থেকেই আসে। আর সেই কারণে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোর উপর ভারত সবথেকে বেশি নির্ভরশীল। বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিশাহীর মতো দেশগুলি থেকে ভারতের সবথেকে বড় অংশ তেল আমদানি হয়। আর এই অঞ্চলে কোনও রকম সংঘাত তৈরি হলে ভারতের জ্বালানি সরবরাহে বিরাট প্রভাব পড়ে। এদিকে একটি তথ্য দিয়ে রাখি, জগ লাডকী জাহাজটির দৈর্ঘ্য আনুমানিক ২৭৪.১৯ মিটার আর প্রস্থ ৫০.০৪ মিটার। পাশাপাশি এটি প্রায় ১.৬৪ লক্ষ টন জ্বালানি বহন করতে পারে।