সৌভিক মুখোপাধ্যায়, হাবড়া: পশ্চিম এশিয়ায় ইরান, ইজরায়েল আর আমেরিকার যুদ্ধ শুধুমাত্র যে জ্বালানি তেলের বাজারকে অস্থির করছে এমনটা নয়। বরং, ভারতের অর্থনীতির মূল মেরুদন্ড রুপি বা ভারতীয় মুদ্রার (Indian Rupee) উপরেও বিরাট আঘাত হানছে। হ্যাঁ, আজ অর্থাৎ শনিবার ডলারের বিপরীতে ভারতীয় টাকার দাম সর্বকালের সর্বনিম্ন স্তরে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের আকাশছোঁয়া দাম আর ডলারের ক্রমাগত শক্তিশালী হওয়া, এই দুইয়ের চাপে দিশেহারা একেবারে দেশের আমদানিকরক থেকে শুরু করে কেন্দ্র সরকার।
মুদ্রা বাজারে ঐতিহাসিক পতন
বলে রাখি, শনিবার ফরেক্স বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গে দেখা যায় যে, ১ মার্কিন ডলারের বিনিময় মূল্য ৯৩.৬৯ টাকা। গত কয়েকদিনে ধারাবাহিক পতনের পর এটিই ভারতীয় মুদ্রার ইতিহাসের সবথেকে নিম্নতম স্তর। এমনকি শুক্রবার অর্থাৎ গতকাল লেনদেন শেষে প্রতি ডলারের দাম দাঁড়িয়েছিল ৯৩.৪৯ টাকা। আর একদিনের ব্যবধানে তা আরও ২০ পয়সা তলানিতে ঠেকল। অন্যদিকে গত বুধবার টাকা ৯২.৯ স্তরে বন্ধ হয়েছিল রুপি। অর্থাৎ, মাত্র ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে টাকার মূল্য প্রায় ৮০ পয়সা হ্রাস পেয়েছে।
কেন পতন হচ্ছে ভারতীয় টাকার?
বেশ কিছু অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পতনের নেপথ্যে তিনটি প্রধান কারণ কাজ করছে। প্রথমত, পুরো ক্রুড অয়েলের দাপট। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার কারণে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১৮০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছনোর আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর ফলে ভারতকে তেল আমদানিতে আগের থেকে অনেক বেশি পরিমাণে ডলার খরচ করতে হচ্ছে। অন্যদিকে বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তার আবহে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ হিসেবে ডলারের দিকে ঝুঁকছে। যার ফলে বিশ্বের ছয়টি প্রধান মুদ্রার বিপরীতে ডলারের সূচক ০.১৭% বেড়ে ৯৯.৪০ এ পৌঁছে গিয়েছে। দ্বিতীয়ত, জ্বালানি এবং এলপিজি গ্যাস সংকটের কারণ ভারতকে অন্য দেশ থেকে চড়া দামে পণ্য কিনতে হচ্ছে। যার ফলে সরাসরি রাজকোষ থেকে দ্রুত বিদেশী মুদ্রার ভাণ্ডার ভেঙে যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: রাতারাতি ভাগ্য ফিরবে সরকারি কর্মীদের! DA নিয়ে চরম সুখবর
এদিকে টাকার দাম কম মানেই বিদেশের বাজার থেকে কেনা সমস্ত জিনিসের দাম বেড়ে যাওয়া। যার ফলে জ্বালানি এবং রান্নার গ্যাসের দাম তো বেড়েছে এবং আরও বাড়বে। কারণ, যেহেতু ভারত তার প্রয়োজনের বেশিরভাগ তেল ও গ্যাস আমদানি করে থাকে, তাই টাকার পতন মানেই পেট্রোল, ডিজেল এবং এলপিজির দাম বাড়ার আশঙ্কা। এছাড়া আমদানিকৃত কাঁচামালের দাম বাড়লে ইলেকট্রনিক্স থেকে শুরু করে খাদ্যদ্রব্য সবকিছুর উৎপাদন খরচ বাড়বে। যার চাপ পড়বে সাধারণ গ্রাহকদের পকেটের উপরে। এমনকি যারা বিদেশে পড়াশোনা করছেন বা ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তাদের খরচও এক ধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে যেতে পারে।