সৌভিক মুখোপাধ্যায়, হাবড়া: বাংলার সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে ডিএ ইস্যু (West Bengal DA Case) নতুন কিছু নয়। তবে সেই বকেয়া ডিএ নিয়ে আবার নতুন করে বিতর্ক। সুপ্রিম কোর্টে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে জমা দেওয়া এক সংশোধিত আবেদনে এমন কিছু তথ্য সামনে এসেছে, যা নিয়ে রাজ্যের কর্মচারীদের মধ্যে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। বেশ কয়েকটি
সূত্রের খবর, ওই আবেদনে রাজ্য সরকার জানিয়েছে যে, পঞ্চম বেতন কমিশনের আওতায় থাকা প্রায় ৩,১৭,৯৫৪ জন বর্তমান সরকারি কর্মচারী আর পেনশনভোগীরা বকেয়া পাওয়ার আওতায় থাকবে। কিন্তু অভিযোগ উঠছে যে, বৃহত্তর কর্মচারী গোষ্ঠীর একটি বড় অংশই যেমন শিক্ষক, শিক্ষকর্মী, পঞ্চায়েত কর্মী বা পুর কর্মচারীদের এই হিসাবের বাইরে রাখা হচ্ছে।
সুপ্রিম কোর্টে জমা পড়ল সংশোধিত আবেদন
আসলে ডিএ সংক্রান্ত মামলার প্রেক্ষিতে রাজ্য সরকার সম্প্রতি ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টে একটি ২১৫ পাতার সংশোধিত আবেদন জমা দিয়েছে। আর সেই আবেদনে রাজ্য সরকারের আইনজীবীদের মাধ্যমে আদালতের মনিটরিং কমিটির কাছে কর্মচারীর সংখ্যা আর আর্থিক হিসেব তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে রাজ্য সরকারের সরাসরি অধীনস্থ কর্মচারীদের সংখ্যা উল্লেখ করা হয়েছে বলে খবর। এদিকে একইসঙ্গে রাজ্য সরকার আদালতের কাছে বকেয়া ডিএ পরিশোধের সময় বাড়ানোর জন্য আবেদন করেছে। যেখানে সুপ্রিম কোর্ট ৩১ মার্চ পর্যন্ত সময়সীমা দিয়েছিল, সেখানে রাজ্যের তরফ থেকে ২০২৬ এর ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে বকেয়া পরিশোধ করার জন্য। আর এই আবেদন নিয়ে ইতিমধ্যেই কর্মচারী সংগঠনগুলির মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠনের দাবি, রাজ্য সরকার শুরুতে ৯ লক্ষের বেশি কর্মচারীর কথা উল্লেখ করলেও আদালতের সামনে শুধুমাত্র রাজ্যের সরাসরি কর্মচারীদের সংখ্যা তুলে ধরা হচ্ছে। যার ফলে বহু কর্মচারী ডিএ পাওয়ার হিসেবের বাইরে থাকতে পারেন।
আরও পড়ুন: আজ থেকেই ঢুকবে বেকার ভাতার টাকা, যুবসাথী নিয়ে ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
এই পরিস্থিতিতে আন্দোলনকারী কর্মচারী সংগঠনগুলির প্রতিক্রিয়ার দিকেই এখন সকলে তাকিয়ে। বিশেষ করে কর্মচারী সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের মতো সংগঠন যারা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে আসছে, তারা এই বিষয়ে এখন কী অবস্থান নেয় সেটাই দেখার। আর কবে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা সরকারি কর্মচারীদের অ্যাকাউন্টে ঢোকে তার দিকে নজর থাকবে সকলের।