সৌভিক মুখোপাধ্যায়, হাবড়া: সাধারণ মানুষের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার বা রাজ্য সরকার একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্প চালু করে রেখেছে। তবে আজ আমরা এমন একটি স্কিম নিয়ে কথা বলব, যেখানে প্রতিমাসে ৩০০০ টাকা করে নিশ্চিত পেনশন মেলে। হ্যাঁ, আমরা বলছি প্রধানমন্ত্রী কিষান মানধন যোজনা (PM Kisan Maandhan Yojana) নিয়ে, যেখানে দেশের কোটি কোটি কৃষক, অসংগঠিত শ্রমিক, শ্রমজীবীরা এই পেনশন পায়। কিন্তু কারা আবেদন করতে পারবে, কীভাবে আবেদন করতে হবে, আর কী কী যোগ্যতা লাগবে তা জানতে হলে অবশ্যই এই প্রতিবেদনটি পড়ুন।
কেন্দ্র সরকারের দারুণ স্কিম
বলে রাখি, দেশে কৃষিকাজকেই জীবিকা হিসাবে সবথেকে বড় প্রাধান্য দেওয়া হয়ে থাকে। কারণ, এই খাতে বহু মানুষ জীবিকা নির্বাহ করে। কিন্তু হ্যাঁ, এক্ষেত্রে বয়স বাড়লে আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যায়। কারণ, বৃদ্ধ বয়সে পরিশ্রমের কাজ করা দায় হয়ে দাঁড়ায়। আর সেই কারণেই কেন্দ্র সরকার যাতে বৃদ্ধ বয়সে মানুষের কোনও রকম সমস্যা না হয়, তার জন্য এই পেনশনের ব্যবস্থা করেছে। এই স্কিমে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসে ৩০০০ টাকা করে দেওয়া হয়। এতে পরিবারের আর্থিক সুরক্ষা বজায় থাকে এবং কৃষকদের জীবনযাপন সচ্ছল হয়।
কী কী সুবিধা মেলে এই প্রকল্পে?
যেমনটা জানা যাচ্ছে, এই প্রকল্পে যুক্ত হলে আপনি ৬০ বছর বয়সের পর প্রতি মাসে ৩০০০ টাকা করে পেনশন পাবেন। এমনকি স্বামী বা স্ত্রীর জন্য ৫০ শতাংশ পারিবারিক পেনশন মিলবে। আর মৃত্যুর পর জমাকৃত অর্থ পরিবার ফেরত পেতে পারে। তবে স্কিমের পেনশন পেতে গেলে অবশ্যই আপনাকে কিছু বিনিয়োগ করতে হবে। এমনকি খুব স্বল্প টাকা জমা করেই আপনি এখান থেকে বড় সুবিধা পেতে পারেন। সেক্ষেত্রে আপনি বয়স অনুযায়ী মাসিক জমা দিতে পারেন। যদি আপনি ১৮ বছর বয়সে এই স্কিমে যোগদান করেন, তাহলে আপনাকে মাসে মাত্র ৫৫ টাকা করে জমা দিতে হবে। সেক্ষেত্রে আপনি প্রতি মাসে ৬০ বছর বয়সের পর ৩০০০ টাকা করে পেনশন পাবেন। যদি কেউ ৩০ বছর বয়সে যোগদান করে, সেক্ষেত্রে তাকে মাসে ১০০ টাকা করে জমা দিতে হবে। তাহলে ৬০ বছর বয়সের পর সে ৩০০০ টাকা করে পেনশন পাবে। অন্যদিকে ৪০ বছর বয়সে যোগদান করলে তাকে মাসে ২০০ টাকা করে জমা দিতে হবে। তবে এই স্কিমে আবেদন করার জন্য অবশ্যই কিছু শর্ত মানতে হবে। প্রথমত, সেই কৃষককে অবশ্যই ভারতীয় নাগরিক হতে হবে এবং তাকে কৃষিকাজের সঙ্গে সংযুক্ত থাকতে হবে। আর বয়স হতে হবে ১৮ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। ৪০ বছর পেরিয়ে গেলে এই স্কিমে আর নাম লেখানো যাবে না। পাশাপাশি তার একটি সক্রিয় ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে এবং সেই অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার লিংক করা থাকতে হবে।
আরও পড়ুন: ইউটিউব শর্টস নাকি ইনস্টাগ্রাম রিলস, কোথায় বেশি আয়? জানুন
আবেদন প্রক্রিয়া এবং প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট
এই স্কিমে খুব সহজে নিজের নাম নথিভুক্ত করতে পারবেন। এর জন্য নিকটবর্তী কোনও কমন সার্ভিস সেন্টারে গিয়ে আবেদন ফর্ম ফিলাপ করে জমা দিতে হবে। তবে সেখানে আপনাকে প্রথম মাসের ফি পেমেন্ট করতে হবে। তারপর নিয়মিত মাসের টাকা জমা চালিয়ে যেতে হবে। আর আবেদন করার জন্য এখানে আধার কার্ড, ভোটার আইডি কার্ড, ব্যাঙ্কের পাসবুক, পাসপোর্ট সাইজের ফটো আর জমির ডকুমেন্ট যদি থাকে তাহলে তা জমা দিতে হবে।